বাংলা হান্ট ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) বর্ষপূর্তিতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর প্রচার শাখা, ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস তথা ISPR একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। ওই সম্মেলনে তারা অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তানের জয় দাবি করে এবং কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করে। ISPR আরও জানিয়েছে যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের কোনও সম্ভাবনা নেই। ISPR-এর মতে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী ২ টি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যুদ্ধের কোনও সম্ভাবনা আছে এমনটা মনে করা পাগলামি। জানিয়ে রাখি যে, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন মারকা-ই-হক’ শুরু করে, যার নাম পরে পরিবর্তন করে ‘অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস’ রাখা হয়।
অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) প্রসঙ্গে কী জানিয়েছে ISPR:
উল্লেখ্য যে, ওই সাংবাদিক সম্মেলনে ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের ডাইরেক্টর জেনারেল লেফটেন্যান্ট আহমেদ শরীফ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নৌবাহিনীর ডেপুটি চিফ (অপারেশনস) রিয়ার অ্যাডমিরাল শাফাত আলী এবং বিমানবাহিনীর (প্রজেক্টস) (এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী। ISPR-এর জিডি আহমেদ শরীফ চৌধুরী মারকাজ-ই-হক চলাকালীন একটি মালটি-ডোমেন অভিযান চালানোর দাবি করেছেন এবং এটাও বলেছেন যে, এতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ভারতকে পরাজিত করেছে।

পাকিস্তান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বিজয়ী হিসেবে নিজেদের ঘোষণা করেছে: তিনি বলেন, ‘আজ আমরা কী ঘটেছে তা নিয়ে বেশি আলোচনা করব না… বরং, আমরা মে ২০২৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়কালের ওপর বেশি মনোযোগ দেব।” তিনি এই সংঘাতের ‘কৌশলগত পরিণতি’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন যে ‘মার্কা-এ-হক’-এর ১০ টি কৌশলগত পরিণতি ছিল, যার প্রথমটি হল, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে চিত্রিত করার ভারতের বয়ান সম্পূর্ণরূপে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। কোনও প্রমাণ ছাড়াই ভারতে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর দায় পাকিস্তানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, পহেলগাঁও ঘটনার এক বছর কেটে গেছে। কিন্তু পাকিস্তানের উত্থাপিত প্রশ্নগুলির কোনও উত্তর মেলেনি।
আরও পড়ুন: IPL-এর মাঝেই দুঃসংবাদ! ৩৬ বছর বয়সে প্রয়াত পাঞ্জাব কিংসের প্রাক্তন পেসার, খেলেছেন কোহলির সঙ্গেও
আহমেদ শরীফ চৌধুরী আরও জানান, ‘ভারতীয় সেনাবাহিনীর রাজনীতিকরণ এবং রাজনীতির সামরিকীকরণ বিপজ্জনক। মারকাজ-ই-হকের ঘটনার কয়েক মাস পর আপনি হয়তো তাদের এয়ার চিফ মার্শালকে এই কথা বলতে শুনে থাকবেন। আমি আজ জানতে পারলাম যে আমরাও কয়েকটি বিমান ধ্বংস করেছি। এটাই হল সামরিক নেতৃত্বের রাজনীতিকরণ। আপনারা কেন আপনাদের অ্যাডমিরাল, জেনারেল এবং মার্শালদেরকে ভাঁড় বানানোর চেষ্টা করছেন? এমনটা করবেন না।’
আরও পড়ুন: আনলিমিটেড কলিং সহ দৈনিক ৩ জিবি ডেটা! অত্যন্ত সস্তায় ৭০ দিনের দুর্ধর্ষ রিচার্জ প্ল্যান নিয়ে এল BSNL
পাকিস্তান নিজেকে ‘শান্তির দূত’ বলে দাবি করেছে: উল্লেখ্য যে, পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর যুক্ত থাকার প্রমাণ চেয়ে তিনি বলেন ‘প্রমাণ কোথায়? এটা কেউ বিশ্বাস করে না… আসলে, আপনারাই সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী। কেউ তাদের কথা শোনে না, কেউ তাদের বিশ্বাস করে না।’ তিনি দাম্ভিকভাবে জানান যে অপারেশন সিঁদুরের দ্বিতীয় ফল হল এই যে, পাকিস্তান ওই অঞ্চলে একটি প্রধান নিরাপত্তা স্থিতিশীলকারী শক্তি হিসেবে আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মার্কা-ই-হক’ এটাও দেখিয়ে দিয়েছে, উত্তেজনাকে কে নিয়ন্ত্রিতভাবে সামলেছে।













