মাধ্যমিকের খাতা স্ক্রুটিনি, রিভিউ করার বিজ্ঞপ্তি দিল পর্ষদ, কবে অবধি পাবেন সুযোগ ?

Published on:

Published on:

WBBSE issued a notification to scrutiny and review the Madhyamik result
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : মাধ্যমিকের (Madhyamik) ফল প্রকাশের পর অনেক পড়ুয়ার মুখে হাসি ফুটলেও, একাংশের মনে থেকে যায় সংশয়। প্রত্যাশার তুলনায় নম্বর কম কেন? কোনও প্রশ্নের উত্তর ঠিকভাবে দেখা হয়নি, এই ধরনের অভিযোগ বা সন্দেহ দূর করতে বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। পরীক্ষার্থীরা চাইলে নম্বর রিভিউ বা স্ক্রুটিনি করাতে পারবেন, এমনকি RTI আইনের মাধ্যমে নিজেদের উত্তরপত্রের কপিও সংগ্রহ করা যাবে। পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, নম্বর যাচাইয়ের জন্য দুধরনের ব্যবস্থা রয়েছে— পোস্ট পাবলিকেশন স্ক্রুটিনি (PPS) এবং পোস্ট পাবলিকেশন রিভিউ (PPR)। তবে আবেদন করার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।

মাধ্যমিকের(Madhyamik) খাতা রিভিউ বা স্ক্রুটিনি বিজ্ঞপ্তি

যেসব পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, তারা স্ক্রুটিনি বা PPS-এর জন্য আবেদন করতে পারবে। এই প্রক্রিয়ায় মূলত নম্বর যোগ, মার্ক এন্ট্রি বা গণনায় কোনও ভুল হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। অন্যদিকে, যারা পাশ করতে পারেনি, তাদের জন্য রয়েছে PPR-এর সুযোগ, যেখানে উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হতে পারে।

এই আবেদন কোনও পরীক্ষার্থী নিজে করতে পারবে না। সমস্ত প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট স্কুলের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। পরীক্ষার্থীদের আলাদা কাগজে নিজেদের নাম, রোল নম্বর এবং কোন বিষয়ে যাচাই করাতে চান তা লিখে স্কুলে জমা দিতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে মার্কশিটের জেরক্স এবং নির্ধারিত টাকা। প্রতি বিষয়ে PPS-এর জন্য ৮০ টাকা এবং PPR-এর জন্য ১০০ টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া স্কুল অতিরিক্ত আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে সর্বোচ্চ ৫ টাকা নিতে পারবে।

৮ মে বিকেল ৪টে থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলবে ২২ মে রাত ১২টা পর্যন্ত। তার পরে আর কোনও আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে পর্ষদ।অনেক পরীক্ষার্থী নিজের উত্তরপত্র চোখে দেখতে চান। তাঁদের জন্য রয়েছে RTI Act, 2005-এর আওতায় আবেদন করার সুযোগ। এই আইনের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের উত্তরপত্রের সার্টিফায়েড কপি পেতে পারবেন। রেজাল্ট প্রকাশের ৭৫ দিনের মধ্যে আবেদনপত্র জমা করতে হবে। অর্থাৎ ২৩ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে আঞ্চলিক অফিসে আবেদন পৌঁছে দিতে হবে।

RTI-এ আবেদনের জন্য ১০ টাকার কোর্ট ফি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি খাতার প্রতিটি পাতার কপির জন্য ২ টাকা করে প্রসেসিং ফি দিতে হবে। সঙ্গে মার্কশিটের সেলফ অ্যাটেস্টেড কপি, মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডিও জমা দিতে হবে। যারা BPL তালিকাভুক্ত, তাদের কোনও ফি দিতে হবে না। তবে সেক্ষেত্রে BPL সার্টিফিকেটের কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

যদি কেউ আগে থেকেই PPS বা PPR-এর আবেদন করে থাকেন, তাহলে সেই ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত RTI-এর আবেদন করা যাবে না। এছাড়া উত্তরপত্র শুধুমাত্র পরীক্ষার্থী বা তার আইনি অভিভাবকের হাতেই তুলে দেওয়া হবে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, RTI-এর মাধ্যমে শুধু খাতার কপি পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে নম্বর বাড়ানো বা পুনর্মূল্যায়ন করা হয় না। তাই নম্বর নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রথমেই PPS বা PPR-এর আবেদন করাই বেশি কার্যকর।

WBBSE issued a notification to scrutiny and review the Madhyamik result

আরও পড়ুন : ভাঙবে তবু মচকাবে না! ‘Ex CM’ শব্দ এড়িয়েই নতুন পরিচয় মমতার

খাতা হাতে পাওয়ার পরে যদি দেখা যায় কোনও প্রশ্নে নম্বর দেওয়া হয়নি বা মোট নম্বর যোগে ভুল রয়েছে, তাহলে ১৫ দিনের মধ্যে বিনামূল্যে সংশোধনের আবেদনও করা যাবে। ফলাফল নিয়ে হতাশ না হয়ে সঠিক নিয়ম মেনে পদক্ষেপ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সময় ছোটখাটো ভুলও ভবিষ্যতের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।