বারংবার হয়েছেন ব্যর্থ! তারপরেই শুরু অভিনব ব্যবসা, বাড়ি পরিষ্কার করেই ১.৫ কোটি আয় মুম্বাইয়ের যুবকের

Published on:

Published on:

Sham Kumawat's success story will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মুম্বাইয়ের সাধারণ এক তরুণ থেকে আজ সফল (Success Story) স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, শাম কুমাবতের জীবনের গল্প এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। জীবনের একের পর এক ব্যর্থতা তাঁকে থামাতে পারেনি। ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হতে না পারা, ব্যবসায় বড় ক্ষতির মুখে পড়া কিংবা ঋণের চাপে ভেঙে পড়া, কোনও কিছুই তাঁর আত্মবিশ্বাস নষ্ট করতে পারেনি। বরং সেই ব্যর্থতাকেই শক্তি বানিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন “সাফসাফাইওয়ালা” নামে একটি সফল হাউসকিপিং ও হোম ক্লিনিং স্টার্টআপ। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই সংস্থা বর্তমানে বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকার ব্যবসা করছে। ঘর পরিষ্কারের মতো সাধারণ পরিষেবাকে সংগঠিত এবং পেশাদার স্তরে পৌঁছে দিয়ে এখন মুম্বাইয়ের তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন শাম।

শাম কুমাবতের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

২০১৭ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর শাম পুনেতে চলে যান ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে। পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একটি হোটেলে খণ্ডকালীন হাউসকিপার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে তিনি একটি জনপ্রিয় সার্ভিস প্ল্যাটফর্মে সার্ভিস পার্টনার হিসেবেও যুক্ত হন। সেখানেই পরিচ্ছন্নতা পরিষেবা শিল্পের ভিতরকার বাস্তব চিত্র কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান তিনি। গ্রাহকদের সমস্যাগুলি বুঝতে শুরু করেন এবং উপলব্ধি করেন যে এই খাতে এখনও পেশাদারিত্ব ও প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। ইউপিএসসি-তে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলেও বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে একটি ছোট ক্লিনিং এজেন্সি শুরু করেছিলেন শাম। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কায় ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তিন লক্ষ টাকার ক্ষতির পাশাপাশি ঋণের বোঝাও মাথায় চাপে।

আরও পড়ুন: বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করায় সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়ছেন অর্শদীপ সিং? মুছে ফেললেন ২০০-রও বেশি পোস্ট

তবে সেই ব্যর্থতা থেকেই নতুন পথ খুঁজে নেন তিনি। ২০২২ সালে মুম্বাই ফিরে এসে শুধুমাত্র ক্লিনিং সার্ভিসকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মতে, বাজারে অধিকাংশ প্ল্যাটফর্ম একসঙ্গে বহু ধরনের পরিষেবা দেওয়ায় মানের সঙ্গে আপস করতে হয়। তাই তিনি শুধু পরিচ্ছন্নতা পরিষেবাতেই বিশেষ জোর দেন। তাঁর ছোট ভাই স্টার্টআপের নাম দেন “সাফসাফাইওয়ালা”। প্রথমদিকে দল পরিচালনা এবং প্রতিদিনের লাভ-ক্ষতির হিসাব নিয়ে বেশ কিছু ভুল করেছিলেন শাম। পরে দক্ষ ম্যানেজার নিয়োগ করে এবং সুসংগঠিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যবসাকে ধীরে ধীরে প্রসারিত করেন। গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার বানান তিনি। ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে পরিচ্ছন্নতার টিপস, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং পরিষেবা সংক্রান্ত ছোট ভিডিও পোস্ট করতে শুরু করেন। তার ফলও মেলে দ্রুত। বর্তমানে সংস্থার প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং আসে অর্গানিক উপায়ে।

“সাফসাফাইওয়ালা”-র অন্যতম বড় শক্তি হল তাদের নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখানে প্রতিটি সার্ভিস পার্টনারের কেওয়াইসি যাচাইয়ের পর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সংস্থাটি কমিশন-ভিত্তিক মডেলে কাজ করে এবং প্রতিটি পরিষেবার উপর ২৫ শতাংশ ফি নেয়। বর্তমানে মুম্বাই, পুনে, থানে এবং দিল্লিতে বাড়ি ডিপ ক্লিনিং, অফিস ও কমার্শিয়াল ক্লিনিংয়ের মতো পরিষেবা দিচ্ছে তারা। গ্রাহকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ায় সংস্থার কাজও বেড়েছে কয়েকগুণ। বর্তমানে সংস্থার নিজস্ব ৩০ জনের দল রয়েছে এবং ২০০-রও বেশি সক্রিয় পরিষেবা সহযোগী কাজ করছেন বিভিন্ন শহরে।

Sham Kumawat's success story will amaze you.

আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানের হরমুজ সংলগ্ন বন্দরে মার্কিন হামলা! নতুন সংঘাতের আশঙ্কা

যে সংস্থা একসময় মাসে মাত্র ৫ হাজার টাকা আয় করত, সেটিই এখন মাসে ২০ লক্ষ টাকারও বেশি আয় করছে। ২০২৫ সালের মধ্যে সংস্থার বার্ষিক টার্নওভার পৌঁছে গিয়েছে দেড় কোটি টাকায়। আগামী ২০২৬ সালের দিওয়ালির মধ্যে আরও ১০টি নতুন শহরে পরিষেবা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে শামের। শুধু ঘর পরিষ্কারেই থেমে থাকতে চান না তিনি। ভবিষ্যতে গাড়ি ধোয়া, বাগান পরিচর্যা এবং গৃহপরিচারিকার পরিষেবাতেও প্রবেশ করার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর লক্ষ্য, সারা দেশে “সাফসাফাইওয়ালা” নামটিকে পরিচ্ছন্নতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। ব্যর্থতা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যে সফলতার (Success Story) নতুন ইতিহাস লেখা যায়, শাম কুমাবতের গল্প যেন সেই বাস্তব উদাহরণ।