অনুপ্রবেশের কারণে জনবিন্যাসে বদল! দেশজুড়ে প্রভাব পর্যালোচনায় বড় পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

Published on:

Published on:

Big move by Home Ministry in response to demographic shifts in India.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশজুড়ে অনুপ্রবেশ এবং তার জেরে জনবিন্যাসের চরিত্র বদলের অভিযোগ গত কয়েক বছর ধরেই তুলে আসছিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষ করে পূর্ব ভারতের (India) সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে বারবার এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবার সেই অভিযোগকে আরও গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্র গঠন করল একটি উচ্চস্তরীয় কমিটি। এই কমিটির মূল কাজ হবে, “অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে দেশ জুড়ে জনবিন্যাস চরিত্রের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের প্রভাব” খতিয়ে দেখা এবং তার বিস্তারিত মূল্যায়ন করা। সোমবার সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করে শাহ জানিয়েছেন, কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নওলেকরকে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

অনুপ্রবেশের কারণে ভারতে (India) জনবিন্যাসে বদলের জেরে বড় পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের:

কেন্দ্রীয় সরকারের গড়া এই বিশেষ কমিটিতে প্রশাসন, নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রের একাধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জনগণনা কমিশনার, প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক বালাজি শ্রীবাস্তব এবং অর্থনীতিবিদ শমিকা রবি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব এই কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। শাহ তাঁর পোস্টে লিখেছেন, জনবিন্যাসের পরিবর্তন শুধু একটি সামাজিক বিষয় নয়, বরং তা দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা, সামাজিক কাঠামো এবং আদিবাসী সমাজের সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাঁর মতে, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ— দুই ক্ষেত্রেই এই বিষয়টি দেশের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: বারংবার হয়েছেন ব্যর্থ! তারপরেই শুরু অভিনব ব্যবসা, বাড়ি পরিষ্কার করেই ১.৫ কোটি আয় মুম্বাইয়ের যুবকের

গত কয়েক বছরে বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরার মতো রাজ্যগুলিতে গিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বারবার সরব হয়েছেন শাহ। তিনি একাধিক সভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দাবি করেছেন, সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশের ফলে বহু এলাকায় জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এই পরিবর্তনের নেপথ্যে “নির্দিষ্ট ছক” কাজ করছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য বরাবরই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ইস্যুকে সামনে আনছে। তবে কেন্দ্র বরাবরই দাবি করেছে, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এবং তা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

গত বছর স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাস পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, এই বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নতুন কমিটি গঠনকে সেই ঘোষণারই বাস্তব রূপ বলে মনে করা হচ্ছে। শাহ তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কমিটি দেশের বিভিন্ন অংশে ধর্মীয় ও সামাজিক জনগোষ্ঠীর অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ধরণ বিশ্লেষণ করবে। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক কারণে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

কমিটির দায়িত্ব শুধু সমীক্ষা বা তথ্য সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমস্যার সমাধানে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করা যেতে পারে, সে বিষয়েও সুপারিশ জমা দেবে এই প্যানেল। সূত্রের খবর, সীমান্ত নিরাপত্তা, নাগরিক নথি যাচাই, জনসংখ্যার পরিবর্তনের ধরণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা, সব দিকই খতিয়ে দেখা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কমিটির রিপোর্ট ভবিষ্যতে কেন্দ্রের একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের (India) সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Big move by Home Ministry in response to demographic shifts in India

আরও পড়ুন: বদলে গেল ‘মুখ্যমন্ত্রীকে বলুন’, আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু ‘আপনার সরকারকে বলুন’, চালু নতুন নম্বর

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপের স্পষ্ট রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। আগামী কয়েক বছরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে। তার আগে অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাসের প্রশ্নকে আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসতে চাইছে বিজেপি। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির একাংশের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ সামাজিক বিভাজন বাড়াতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতি বজায় রাখতে বাস্তব পরিস্থিতির নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন। সেই কারণেই বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশের জনবিন্যাস সংক্রান্ত নীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে (India)।