ইউটিউবের এক ভিডিও বদলে দিল জীবনের লক্ষ্য! মাত্র ২২ বছর বয়সে কোচিং ছাড়াই ইউপিএসসি জয় করে চমকে দিলেন অভিজিৎ

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মাত্র ২২ বছর বয়সে দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসে সাফল্য (Success Story) অর্জন করে হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন অভিজিৎ পাটিল। কোনও নামী কোচিং সেন্টারের সাহায্য নয়, শুধুমাত্র আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং নিয়মিত পরিশ্রমের জোরে তিনি আইপিএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। বর্তমানে রাজস্থানের চুরু জেলার রাজগড়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বা এএসপি পদে কর্মরত এই তরুণ অফিসারের সাফল্যের কাহিনি এখন দেশজুড়ে আলোচনার বিষয়। খুব অল্প বয়সেই কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, সাফল্যের জন্য কেবল অর্থ বা কোচিং নয়, প্রয়োজন দৃঢ় মানসিকতা ও সঠিক পরিকল্পনা।

অভিজিৎ পাটিলের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

মহারাষ্ট্রের থানে শহরে ১৯৯৯ সালের ১১ জুন জন্মগ্রহণ করেন অভিজিৎ তুলসিরাম পাটিল। তাঁর বাবা বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের প্রধান অডিটর হিসেবে কাজ করতেন এবং মা সেচ দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে দু’জনেই অবসরপ্রাপ্ত। দুই দিদির একমাত্র ভাই অভিজিৎ ছোট থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় থেকেই তাঁর মধ্যে প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়। তিনি সিভিল ও এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে তাঁর যাত্রার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, কলেজের চূড়ান্ত বর্ষে পড়াকালীনই তিনি ইউপিএসসি প্রিলিমস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সাধারণত অধিকাংশ পরীক্ষার্থী স্নাতক সম্পূর্ণ হওয়ার পর প্রস্তুতি শুরু করেন, সেখানে অভিজিৎ পড়াশোনার পাশাপাশি প্রস্তুতি নিয়ে বিরল সাফল্য অর্জন করেন।

আরও পড়ুন: লাহোরে ‘হিন্দু নাম’ ফেরানো নিয়ে বিতর্ক, চাপের মুখে নামবদল থামাল পাক পাঞ্জাব সরকার

অভিজিতের জীবন বদলে দেয় একটি ইউটিউব ভিডিও। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় ইউটিউবে এক ইউপিএসসি টপারের সাক্ষাৎকার দেখে তাঁর মনে হয়, তিনিও এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন। সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় তাঁর স্বপ্নপূরণের লড়াই। তিনি কোনও কোচিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হননি। ইন্টারনেট, অনলাইন স্টাডি ম্যাটেরিয়াল এবং বইয়ের সাহায্যেই নিজের প্রস্তুতি গড়ে তোলেন। প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টা করে পড়াশোনা করতেন তিনি। সময় ব্যবস্থাপনা এবং ধারাবাহিক অনুশীলনই ছিল তাঁর মূল শক্তি। তিনি মনে করতেন, নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে সঠিকভাবে সময় ভাগ করে পড়লে কোচিং ছাড়াও ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল (Success Story) হওয়া সম্ভব।

২০২২ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অভিজিৎ ওবিসি বিভাগে সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্কে ৪৭০তম স্থান অর্জন করেন। মেইনস পরীক্ষায় তিনি ১৭৫০-এর মধ্যে ৭৭২ নম্বর এবং সাক্ষাৎকারে ২৭৫-এর মধ্যে ১৮০ নম্বর পান। সব মিলিয়ে তাঁর মোট স্কোর দাঁড়ায় ৯৫২। মাত্র ২২ বছর বয়সে আইপিএস অফিসার হওয়ায় তাঁকে রাজস্থান ক্যাডারের অন্যতম সর্বকনিষ্ঠ অফিসার হিসেবেও ধরা হয়। অনেক সময় তাঁকে দেখে কলেজের ছাত্র বলে ভুল করেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু তাঁর কাঁধের তারকাচিহ্নই তাঁর আসল পরিচয় তুলে ধরে। অভিজিতের আগে বিকাশ সাংওয়ান এবং দেশমুখ পারি অনিল ২৩ বছর বয়সে আইপিএস অফিসার হয়েছিলেন। সেই রেকর্ড ভেঙে আরও কম বয়সে সাফল্য পান অভিজিৎ।

Abhijeet Patil's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন: বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে ‘রহস্যমৃত্যু’ পরিচালক অনীক দত্তের, থমথমে টলিউড

আজকের দিনে যখন ইউপিএসসি প্রস্তুতিকে ঘিরে বিশাল কোচিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে, তখন অভিজিৎ পাটিলের সাফল্য অনেকের ভাবনাকেই বদলে দিয়েছে। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ইচ্ছাশক্তি থাকলে সাফল্যের পথে (Success Story) অসম্ভব বলে কিছু থাকে না। তাঁর এই যাত্রা দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে বড় বার্তা বহন করে— বয়স কখনও সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। সঠিক লক্ষ্য, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনও স্বপ্নই বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি তরুণদের স্বপ্ন দেখতে এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে উৎসাহিত করছেন।