বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেই কাউকে বিদেশি বলা যাবে না। বিহারের SIR মামলায় এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আদালত জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা শুদ্ধ করতে পারে ঠিকই, কিন্তু কে নাগরিক আর কে নন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কমিশনের নেই। এই রায়ের পর বিহারের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
SIR রায় নিয়ে বাড়ল রাজনৈতিক উত্তেজনা
বিহারে বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির জন্য নির্বাচন কমিশন বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া বা SIR চালু করেছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা যায় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। দীর্ঘ শুনানির পর বৃহস্পতিবার রায় দেয় দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেই কাউকে ভারতের নাগরিক নন বলা যাবে না। নাগরিকত্ব বিচার করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নয়। সেই দায়িত্ব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের।
কী নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)?
তবে আদালত এও বলেছে, ভোটার হওয়ার জন্য নাগরিক হওয়া জরুরি। তাই কমিশন প্রাথমিকভাবে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। সুপ্রিম কোর্টের(Supreme Court) নির্দেশ, যাঁদের নাম ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় নেই, তাঁদের তথ্য চার সপ্তাহের মধ্যে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন মেনেই সেই প্রক্রিয়া চলবে।
আদালত (Supreme Court) আরও জানিয়েছে, লোকসভা, বিধানসভা, পুরসভা বা পঞ্চায়েত, যে নির্বাচনই সামনে থাকুক, তার আগেই বাদ পড়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরাও ফের আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়ে সরকারকে সন্তুষ্ট করতে পারলে ফের ভোটার তালিকায় নাম তোলা যাবে। এই রায়ের পর পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, SIR-এ যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে বা যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) যখন বলছে নাম বাদ মানেই বিদেশি নয়, তখন সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা বন্ধ করা অমানবিক। সৌগত রায়ের অভিযোগ, বিহার ও বাংলায় তাড়াহুড়ো করে SIR চালিয়ে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পরে ট্রাইবুনালে আবেদন করার পর অনেকের নাম আবার যুক্তও হচ্ছে। তাঁর দাবি, ভোটের আগে এই সংশোধন হলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। পশ্চিমবঙ্গের বহু আসনে জয়ের ব্যবধান বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যার থেকেও কম ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ শুধু হোল্ডিং সেন্টার নয়, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে আরও বড় অ্যাকশন শুভেন্দু সরকারের
একই সুর শোনা গিয়েছে কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভির গলাতেও। তাঁর বক্তব্য, নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা কমিশনের নেই বলেই সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানিয়েছে। অথচ সেই কারণ দেখিয়েই বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে ট্রাইবুনালে আবেদন করা বহু মানুষের নাম ফের ভোটার তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। ভোটের আগেই সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।













