বাংলাহান্ট ডেস্ক: সাধারণ মানুষের জন্য ওষুধকে (Medicine Price) আরও সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (এনপিপিএ)। কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সার মন্ত্রকের অধীনস্থ এই সংস্থা বাজারে ব্যবহৃত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের খুচরো মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। সম্প্রতি জারি হওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, অ্যালার্জি, ভিটামিনের ঘাটতি এবং স্নায়বিক সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত একাধিক ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রোগীদের অতিরিক্ত দামে ওষুধ কেনার ঝুঁকি কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
৩০ টি প্রয়োজনীয় ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরোমূল্য (Medicine Price):
বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার নাম উল্লেখ করে তাদের উৎপাদিত নির্দিষ্ট ওষুধের খুচরো মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ‘ফার্মা সিন্থ ফর্মুলেশন্স’-এর তৈরি কোলেক্যালসিফেরল ওরাল সলিউশন (৬০,০০০ আইইউ)-এর প্রতি মিলিলিটারের মূল্য ১৫.৮৮ টাকা ধার্য করা হয়েছে। একইভাবে ‘তিরুপতি মেডিকেয়ার’-এর তৈরি ভিটামিন ডি৩ ওরাল সলিউশন (৬০,০০০ আইইউ)-এর দাম প্রতি মিলিলিটার ১৪.৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ এবং হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় এই ধরনের ওষুধ বহুল ব্যবহৃত হয়।
আরও পড়ুন: মিস হল ফ্লাইট, অথচ যাত্রীকে ৬৯,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিল ভারতীয় রেল! অবাক করবে পুরো ঘটনা
শুধু ভিটামিন ডি নয়, এনপিপিএ ক্যালশিয়াম, মিথাইলকোবালামিন, এল-মিথাইলফোলেট ক্যালশিয়াম এবং পাইরিডক্সাল-৫ সমৃদ্ধ ওষুধগুলির দামও বেঁধে দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই ওষুধগুলি সাধারণত স্নায়বিক দুর্বলতা, ভিটামিনের অভাব, হাড়ের ক্ষয় এবং বিভিন্ন ধরনের নিউরোলজিক্যাল সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণের ফলে বাজারে মূল্যবৈষম্য কমবে এবং রোগীরা সঠিক দামে প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
হৃদ্রোগ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধগুলিও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। শরীরে লিপিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অ্যাটরভাস্ট্যাটিন ও ফেনোফাইব্রেট ট্যাবলেটের প্রতিটির মূল্য ১৮.৪৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অ্যালার্জির চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিলাস্টিন ও মন্টেলুকাস্ট ট্যাবলেটের মূল্য প্রতি ট্যাবলেট ২১.২২ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদ্রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিসোপ্রোলল ফিউমারেট ও অ্যামলোডিপাইন সমন্বিত ট্যাবলেটের মূল্য প্রতিটি ৯.৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্যও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। বহুল ব্যবহৃত এমপাগ্লিফ্লোজিন, সিটাগ্লিপটিন এবং মেটফর্মিন এক্সটেন্ডেড রিলিজ সমন্বিত ট্যাবলেটের মূল্য প্রতি ট্যাবলেট ১৪.৮৮ টাকা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে এই ধরনের ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার সিদ্ধান্ত বহু রোগীর জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের নিয়মিত ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হয়, তাই মূল্য নিয়ন্ত্রণ রোগীদের আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

আরও পড়ুন: ব্রহ্মসের শক্তিতে মুগ্ধ গোটা বিশ্ব! ফিলিপিন্স-ভিয়েতনামের পর এই দেশ কিনছে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র
তবে এনপিপিএ স্পষ্ট জানিয়েছে, ঘোষিত মূল্যের মধ্যে জিএসটি অন্তর্ভুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা যদি পণ্য ও পরিষেবা করের আওতায় থাকে, তাহলে নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে প্রযোজ্য জিএসটি যোগ করা যেতে পারে। একইসঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্যের বেশি দামে ওষুধ বিক্রি (Medicine Price) করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে মূল্য নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টাই আরও জোরদার হল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।













