বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাজধানী এক্সপ্রেসের দেরিতে ফ্লাইট মিস, তারপর দীর্ঘ আইনি লড়াই। অবশেষে সেই মামলায় বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় রেল (Indian Railways)। এক দম্পতির আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক হয়রানির অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে রেলকে ৬৯ হাজার টাকারও বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্টেট কনজিউমার ডিসপিউটস রিড্রেসাল কমিশন। ট্রেন দেরি হওয়া নিয়ে যাত্রীদের অসুবিধার ঘটনা নতুন নয়, তবে একটি ট্রেনের বিলম্বের কারণে রেলকে এত বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হওয়ার ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
ফ্লাইট মিস হওয়ার যাত্রীকে ৬৯,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিল ভারতীয় রেল (Indian Railways)!
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। রাজস্থানের কোটার বাসিন্দা অনিল কুমার রানা এবং তাঁর স্ত্রী অনিতা রানা কেরল সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন। যেহেতু কোটা থেকে তিরুবনন্তপুরমে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল না, তাই তাঁরা দিল্লি থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটের টিকিট কেটে রাখেন। ওই বিমানের ইকোনমি ক্লাসের টিকিট বাবদ তাঁদের খরচ হয়েছিল ৩৩ হাজার ৯২৯ টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোটা থেকে রাজধানী এক্সপ্রেসে দিল্লি পৌঁছে সেখান থেকে বিমান ধরে কেরলে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের।
আরও পড়ুন: ব্রহ্মসের শক্তিতে মুগ্ধ গোটা বিশ্ব! ফিলিপিন্স-ভিয়েতনামের পর এই দেশ কিনছে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র
১৭ ডিসেম্বর সকালে তাঁরা হজরত নিজামুদ্দিন রাজধানী এক্সপ্রেসে যাত্রা শুরু করেন। ট্রেনটি দিল্লিতে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পৌঁছনোর কথা ছিল। অন্যদিকে, তাঁদের ফ্লাইট ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিট। ফলে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখেই যাত্রাপথ নির্ধারণ করেছিলেন ওই দম্পতি। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি অন্যরকম হয়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার ঘণ্টা পরে, বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে দিল্লিতে পৌঁছয় রাজধানী এক্সপ্রেস। ফলে বিমানবন্দরে পৌঁছেও তাঁরা নির্ধারিত ফ্লাইট ধরতে পারেননি। বাধ্য হয়ে সেই রাত বিমানবন্দরেই কাটাতে হয় তাঁদের।
পরিস্থিতির চাপে পরের দিন নতুন করে বিমান টিকিট কাটতে হয় ওই দম্পতিকে। নতুন টিকিট বাবদ তাঁদের খরচ হয় ৭২ হাজার ৯৩০ টাকা। অতিরিক্ত এই ব্যয়, যাত্রা পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়া এবং মানসিক অস্বস্তির কারণে তাঁরা ভারতীয় রেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। প্রথমে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও সন্তোষজনক সমাধান মেলেনি। এরপর ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে আইনি নোটিস পাঠিয়ে কনজিউমার ফোরামের দ্বারস্থ হন তাঁরা।
মামলার শুনানিতে ভারতীয় রেল (Indian Railways) দাবি করে, অপারেশনাল, প্রযুক্তিগত এবং নিরাপত্তাজনিত নানা কারণে ট্রেনের বিলম্ব ঘটতেই পারে। রেলের তরফে আরও বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছবে—এমন কোনও গ্যারান্টি দেওয়া হয় না। কিন্তু কমিশন এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। তাদের পর্যবেক্ষণ, যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোগান্তির বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। বিশেষ করে ট্রেনের অস্বাভাবিক বিলম্বের ফলে যদি যাত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে যায় এবং অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপতে হয়, তাহলে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থারও দায়বদ্ধতা রয়েছে।

আরও পড়ুন: শুধু মাথায় ফাটালেই তো হবে না, চুলের যত্নে কীভাবে কাজে লাগাবেন ডিম? রইল তিনটি মাস্কের পদ্ধতি
শেষ পর্যন্ত জেলা কনজিউমার কমিশন রেলকে (Indian Railways) অতিরিক্ত বিমান ভাড়ার খরচ বাবদ ৩৯ হাজার টাকা, মানসিক যন্ত্রণা ও হয়রানির জন্য ২০ হাজার টাকা, হোটেল ও অন্যান্য খরচের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং আইনি প্রক্রিয়ার ব্যয় হিসেবে আরও ৫ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সব মিলিয়ে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক দাঁড়ায় ৬৯ হাজার ১ টাকা। এই রায়কে যাত্রী অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করবে এবং যাত্রীদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।













