বাংলাহান্ট ডেস্ক: মাঝআকাশে আচমকা বিপদসংকেত, তারপর মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বিমানের ভয়ংকর উচ্চতা পতন—ইজরায়েলগামী একটি ফ্লাইদুবাই বিমানের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী (Dubai-Tel Aviv Flight) FZ1073 বিমানটি বুধবার সৌদি আরবের (Saudi Arabia) তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। বিমানে প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, যদিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১৮০ বলা হয়েছে। সব যাত্রী এবং ক্রু নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থা। তবে মাঝআকাশে ঠিক কী ঘটেছিল, তা ঘিরে এখনও তদন্ত চলছে।
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী (Dubai-Tel Aviv Flight) বিমানে ভয়াবহ কাণ্ড!
ঘটনার সূত্রপাত বিমানের ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে তুমুল বচসা থেকে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায় এবং এক পর্যায়ে এক পাইলট অপরজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যাত্রীদের কয়েকজনও আতঙ্কের মধ্যে ককপিটের দিকে ছুটে যান এবং হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন বলে খবর। এরপর বিমানে থাকা অন্য পাইলটদের সহায়তায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। কী কারণে দুই পাইলটের মধ্যে এমন সংঘর্ষ বাধল, তা এখনও স্পষ্ট নয় (Dubai- Tel Aviv Flight)।
আরও পড়ুন: ১৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ! আমেরিকার সবথেকে বড় স্টিল প্ল্যান্ট তৈরি করবে ভারতের Essar Group
এর মধ্যেই বিমানের ট্রান্সপন্ডার থেকে প্রথমে ‘৭৭০০’ কোড পাঠানো হয়, যা সাধারণ জরুরি পরিস্থিতির সংকেত। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘৭৫০০’ কোড পাঠানো হয়, যা সাধারণত বিমান ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে ইজরায়েলি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তীব্র সতর্কতা তৈরি হয় এবং বিমানটির গতিপথ বদলে সৌদি আরবের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ফুটের কাছাকাছি উচ্চতা হারিয়েছিল। এই অস্বাভাবিক অবতরণই প্রথমে হাইজ্যাকের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দেয়।
ঘটনার পর অবশ্য বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে। কিছু ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এক পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটিকে বিপজ্জনকভাবে নিচে নামিয়ে সেটিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। অন্যদিকে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও জানিয়েছেন, এক কো-পাইলট অপর পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে বিমানটিকে মাটিতে আছড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য, ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম এবং পাইলটের প্রকৃত অভিপ্রায় নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে। গুরুত্বপূর্ণভাবে, ‘ভারতীয় পাইলট’ হওয়ার দাবিটিও এখনও নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হয়নি; Reuters-এর প্রতিবেদনে অভিযুক্ত কো-পাইলটকে ওমানের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বঙ্গ-সহ ১৩ রাজ্যে ফিরল ফর্ম ৬! নতুন আবেদনকারীদের দিতে হবে না SIR ডিক্লারেশন
শেষে বিমানের নিয়ন্ত্রণ সামলে তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব হয়। যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তদন্ত শুরু করেছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কো-পাইলটকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ইজরায়েলি কর্তাদের বক্তব্যে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি। কয়েক মিনিটের সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে মাটিতে নামতে পারায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে—এটাই এখন পর্যন্ত ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক (Dubai-Tel Aviv Flight)।













