মুখ্যমন্ত্রী ফাঁস করলেন অভিযোগকারীর নাম, এক ঘণ্টার মধ্যেই বহিষ্কার তৃণমূলের

Published on:

Published on:

Suvendu Adhikari reveals name of complainant, Trinamool expels him within hours
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তুঙ্গে। এই ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।সই জাল কান্ডের অভিযোগটি প্রথম সামনে এনেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসেরই দুই বিধায়ক, সেই কথাই স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

সই জাল কান্ড প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান,”২০ মে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক একটা রেজ়োলিউশনের কপি পাঠান, ৭০ জন MLA-র সই করা। রেজ়োলিউশনের কপিতে ব্লক লেটারে ১০ জনের নাম লেখা। ২৭ মে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্পিকারকে অভিযোগ জানান। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্পিকারের নির্দেশে প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি হেয়ার স্ট্রিট থানায় FIR করেন। হোম সেক্রেটারির নির্দেশে আমার অনুমোদনে সিআইডিকে তদন্তভার দেওয়া হয়।”

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই একাধিক বিধায়কের বক্তব্য সংগ্রহ করেছেন। সিআইডি ক্যানিং পূর্ব, বোলপুর, হাওড়া মধ্য, ডোমজুড়, চৌরঙ্গি, রায়দিঘি, মহেশতলা, কুমারগঞ্জ, খড়্গপুর, বেলেঘাটা, লালগোলা, বসিরহাট উত্তর এবং হাড়োয়া কেন্দ্রের বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতির কারণে তার সঙ্গে কথা বলা হয়নি

তদন্তে উঠে আসা তথ্যের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কয়েকজন বিধায়ক তাঁদের নামে থাকা স্বাক্ষরকে অস্বীকার করেছেন। বাহারুল ইসলাম, অরূপ রায় এবং শুভাশিস দাস নাকি তদন্তকারী সংস্থাকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে সংশ্লিষ্ট নথিতে থাকা স্বাক্ষর তাঁদের নয়। এই প্রসঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এরা প্রতিষ্ঠিত চোর। নিজের দলের বিধায়কদের সই জাল করে! তিন জন বিধায়ক তা স্বীকারও করেন সিআইডির সামনে। মালের দায়িত্ব আরোহীর, তাঁরা কেন-ই বা ফাঁসবেন?” আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও সরকার আপসহীন থাকবে বলে স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।

Chief Minister reveals name of complainant, Trinamool expels him within hours

আরও পড়ুন : আজ থেকে ফ্রি বাস পরিষেবা! ‘জিরো ব্যালেন্স টিকিট’ কাটতে কী কী নথি লাগবে? মহিলারা জানুন

উল্লেখ্য, এই মামলার তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি এদিন উপস্থিত হননি। অন্যদিকে, শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর‌পরই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে। সই বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর যখন তুঙ্গে, তখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী দিকে মোড় নেয়, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।