যুদ্ধের আবহে অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখাই লক্ষ্য! বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কেন্দ্রের

Published on:

Published on:

India took significant steps to attract foreign investment.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব ক্রমশ ভারতীয় (India) অর্থনীতির উপরও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ও আর্থিক স্থিতিশীলতার উপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কয়েক সপ্তাহ আগে দেশবাসীর কাছে একাধিক আবেদন জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু তাতেও প্রত্যাশিত ফল না মেলায় এবার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটল কেন্দ্র সরকার। সূত্রের খবর, সরকারি ঋণপত্র বা সরকারি বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য মূলধনী লাভ কর সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের বাজারে নতুন করে বিদেশি পুঁজির প্রবাহ বাড়বে এবং অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভারতের (India):

জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য আয়কর আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একটি অধ্যাদেশে ইতিমধ্যেই অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললেই নতুন বিধান কার্যকর হবে। বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ১২ মাসের বেশি সময় ধরে রাখা ঋণপত্র ও তালিকাভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভের উপর ১২.৫ শতাংশ কর প্রদান করেন। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সরকারি ঋণপত্রের ক্ষেত্রে এই কর আর দিতে হবে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতীয় (India) সরকারি বন্ডকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারের অভ্যন্তরে সরকারি ঋণপত্র থেকে অর্জিত সুদের উপর কর ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকায় তন্ময় করের বাংলা লোকগীতিতে মুগ্ধ খুদে ক্রিকেটাররা! প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা

সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে বিদেশি বিনিয়োগে ধারাবাহিক পতন এবং টাকার উপর ক্রমবর্ধমান চাপ। চলতি বছরে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতের শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে, অন্যদিকে ডলারের তুলনায় টাকার মূল্যও দুর্বল হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি এবং বিদেশি পুঁজির বহির্গমনের কারণে রুপির উপর চাপ আরও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য করের বোঝা কমিয়ে নতুন পুঁজি আকর্ষণের কৌশল নিয়েছে কেন্দ্র।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যুদ্ধ এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধি ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও চলতি হিসাবের ঘাটতির উপর। ফলে অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করতে সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি শুধু বাজারে তারল্য বাড়াবে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহও শক্তিশালী করবে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, সরকারি বন্ডে কর ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সাহায্য করতে পারে।

India took significant steps to attract foreign investment.

আরও পড়ুন: বসবাস করেন মাত্র ৯১ জন! লাদাখে তৈরি হচ্ছে ভারতের প্রথম মডেল বর্ডার ভিলেজ

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু কর ছাড় দিলেই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে না। দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি বিনিয়োগ টিকিয়ে রাখতে অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকারও সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই আরও কিছু পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে বলে সূত্রের দাবি। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাসের নিরিখে চলতি বছরকে অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, টাকার উপর চাপ কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রের এই নতুন নীতি কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে অর্থনৈতিক মহলের (India)।