বাংলাহান্ট ডেস্ক: লাদাখের (Ladakh) দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত একটি ছোট্ট গ্রাম এবার দেশের উন্নয়ন ও সীমান্ত নিরাপত্তার নতুন প্রতীক হতে চলেছে। মাত্র ৯১ জন বাসিন্দার এই গ্রামটির নাম চুমুর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬,৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই প্রত্যন্ত জনপদ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলএসি-র খুব কাছেই অবস্থিত। এতদিন পর্যন্ত ভৌগোলিক প্রতিকূলতা এবং সীমিত পরিকাঠামোর কারণে এই অঞ্চল মূলধারার উন্নয়ন থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে এবার সেই চিত্র বদলাতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। বুধবার পূর্ব লাদাখের চ্যাংথাং অঞ্চলের চুমুর গ্রামে ভারতের প্রথম মডেল সীমান্ত গ্রাম তৈরির প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয় কুমার সাক্সেনা। এই প্রকল্পকে সীমান্ত অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লাদাখে (Ladakh) তৈরি হচ্ছে ভারতের প্রথম মডেল বর্ডার ভিলেজ:
লেফটেন্যান্ট গভর্নর জানিয়েছেন, ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় লাদাখের (Ladakh) চুমুরকে একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং পর্যটনবান্ধব সীমান্ত গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তাঁর মতে, সীমান্ত অঞ্চলের উন্নয়ন শুধু স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে না, বরং জাতীয় নিরাপত্তাকেও আরও সুদৃঢ় করবে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল দেশের প্রত্যন্ত সীমান্ত জনপদগুলিতে আধুনিক পরিকাঠামো, উন্নত আবাসন ব্যবস্থা এবং স্থায়ী জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা। দীর্ঘদিন ধরে যেসব অঞ্চল উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে দূরে ছিল, সেগুলিকে নতুন করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: সোনার বাজারে বড় স্বস্তি! লক্ষ্মীবারে হু হু করে কমল হলুদ ধাতুর দর, জানুন আজকের রেট
চুমুর গ্রামে বর্তমানে মাত্র ২৪টি পরিবার বসবাস করে। কঠিন আবহাওয়া এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের মধ্যেও এখানকার মানুষ বহু বছর ধরে নিজেদের জীবনযাপন চালিয়ে আসছেন। গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা পশমিনা ছাগল পালনের সঙ্গে যুক্ত এবং এই শিল্পই স্থানীয় অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। উচ্চমানের পশমিনা উল উৎপাদনের জন্য এই অঞ্চল বিশেষভাবে পরিচিত। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসন এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধার অভাব দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামবাসীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই সমস্যার সমাধান করতেই এবার পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’-এর প্রথম ধাপে লাদাখের মোট ১০টি সীমান্ত গ্রামের উন্নয়ন করা হবে। তার মধ্যে চুমুরকে মডেল গ্রাম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামবাসীদের জন্য তাপ নিরোধক দেওয়াল-সহ ২৪টি আধুনিক ও জলবায়ু-সহনশীল বাড়ি নির্মাণ করা হবে। পাহাড়ি অঞ্চলের কঠোর শীত মোকাবিলার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানা গিয়েছে। শুধু আবাসন নয়, স্থানীয়দের আয় বৃদ্ধির বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে একটি অতিরিক্ত কক্ষ রাখা হবে, যা হোমস্টে হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এর ফলে পর্যটকদের আকর্ষণ করা সম্ভব হবে এবং গ্রামবাসীদের জন্য নতুন আয়ের পথ খুলে যাবে।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেয়েছেন কি না, কয়েক মিনিটেই স্টেপ বাই স্টেপ জেনে নিন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফল হলে সীমান্ত অঞ্চলের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি আদর্শ মডেল হয়ে উঠতে পারে। একদিকে যেমন স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে, অন্যদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবসতি বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় কৌশলগত দিক থেকেও দেশ লাভবান হবে। লাদাখের (Ladakh) চুমুরের মতো প্রত্যন্ত গ্রামে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে উন্নয়নের আলো দেশের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্র ও প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারতের প্রথম মডেল সীমান্ত গ্রাম হিসেবে চুমুরের এই যাত্রা তাই শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং সীমান্ত অঞ্চলের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।













