মোদীর মুকুটে যুক্ত হচ্ছে নতুন পালক! জওহরলাল নেহেরুর রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরির পথে প্রধানমন্ত্রী

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। আগামী ১০ জুন তিনি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর দীর্ঘদিনের একটানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছেন। স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির এতদিন নেহরুর দখলেই ছিল। প্রায় ৬২ বছর ধরে অক্ষত থাকা সেই রেকর্ড এবার মোদীর নামে চলে যেতে চলেছে। ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে টানা দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফেরার পর তাঁর এই রাজনৈতিক যাত্রা এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে চলেছে।

জওহরলাল নেহেরুর রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরির পথে নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)

জওহরলাল নেহরু স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৫২ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ৪৮৯টির মধ্যে ৩৬৪টি আসনে জয়লাভ করে এবং নেহরু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৩ মে ১৯৫২ থেকে ২৭ মে ১৯৬৪ পর্যন্ত, অর্থাৎ টানা ৪,৩৯৮ দিন তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গঠন, পরিকল্পিত অর্থনীতির ভিত্তি নির্মাণ, বৈদেশিক নীতির রূপরেখা তৈরি এবং স্বাধীন ভারতের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই তাঁর দীর্ঘ প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ড দীর্ঘ দশক ধরে অটুট ছিল (Narendra Modi)।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের আবহে অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখাই লক্ষ্য! বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কেন্দ্রের

অন্যদিকে, নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক উত্থানও ভারতীয় রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি  গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং টানা তিনবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন। ২০১৪ সালে জাতীয় রাজনীতিতে উত্থানের পর তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় ফিরে আসে। ফলে একটানা ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের শাসনভার তাঁর হাতেই রয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি ২০২৫ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ৪,০৭৭ দিনের একটানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ড অতিক্রম করেছেন। এবার নেহরুর রেকর্ডও তাঁর নাগালের মধ্যে এসে গিয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র কার্যকালের দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে দুই নেতার তুলনা করা কঠিন। নেহরু ও মোদী সম্পূর্ণ ভিন্ন সময়ের প্রতিনিধি। নেহরুর সময় ছিল সদ্য স্বাধীনতা পাওয়া ভারতের রাষ্ট্রগঠন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের অবস্থান নির্ধারণের যুগ। অন্যদিকে, মোদীর সময়কাল চিহ্নিত হয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার দ্বারা। ফলে তাঁদের নেতৃত্বের ধরন, নীতিগত অগ্রাধিকার এবং রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রকৃতিও একেবারেই আলাদা।

Narendra Modi is set to create new history by breaking Nehru's record.

আরও পড়ুন: ভুল পথে এগোচ্ছে দেশ! একাধিক সঙ্কটে জর্জরিত পাকিস্তানের ওপর ভরসা হারাচ্ছেন খোদ পাকিস্তানিরাই

আগামী ১০ জুন মোদী (Narendra Modi) যখন ৪,৩৯৯ দিন পূর্ণ করবেন, তখন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় রচিত হবে। এই রেকর্ড কেবল ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্যের প্রতীক নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্বের এক নতুন নজির হিসেবেও বিবেচিত হবে। যদিও নেহরু ও মোদীর রাজনৈতিক দর্শন, শাসনব্যবস্থা এবং সময়কাল নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা চলতেই থাকবে, তবুও একটানা প্রধানমন্ত্রিত্বের নিরিখে মোদীর নাম ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্থানে উঠে আসতে চলেছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই ঘটনা ভবিষ্যতেও ভারতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকবে।