ভুল পথে এগোচ্ছে দেশ! একাধিক সঙ্কটে জর্জরিত পাকিস্তানের ওপর ভরসা হারাচ্ছেন খোদ পাকিস্তানিরাই

Published on:

Published on:

In Pakistan plagued by multiple crises Pakistanis themselves are losing faith
Follow

বাংল হান্ট ডেস্ক: প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা পাকিস্তানের (Pakistan) অর্থনীতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের গভীর হতাশার ছবি সামনে এনেছে। বাজার গবেষণা সংস্থা ইপসোসের পরিচালিত এই সমীক্ষা অনুযায়ী, পাকিস্তানের অধিকাংশ নাগরিক মনে করছেন দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে না। সমীক্ষার ফলাফলে দেখা গিয়েছে, প্রতি ১০ জন পাকিস্তানির মধ্যে মাত্র ২ জন, অর্থাৎ ২০ শতাংশ মনে করেন যে দেশ বর্তমানে সঠিক পথে রয়েছে। বিপরীতে ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পাকিস্তান ভুল পথে এগোচ্ছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির আবহে এই সমীক্ষার ফলাফল পাকিস্তানের শাসক মহলের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

একাধিক সঙ্কটে জর্জরিত পাকিস্তানের (Pakistan) ওপর ভরসা হারাচ্ছেন খোদ পাকিস্তানিরাই:

গত মাসে পরিচালিত এই সমীক্ষায় পাকিস্তানের (Pakistan) বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১,০০০-এরও বেশি মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ইসলামাবাদ, পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখাওয়া, গিলগিট-বালতিস্তান এবং আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সমীক্ষা চালানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের গতিপথের উপর জনগণের আস্থা বর্তমানে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার সময়ে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই আশাবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। সমীক্ষা বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকাংশে কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার মানসিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে তুলনীয়।

আরও পড়ুন: আবহাওয়ার পালাবদল, ঘূর্ণাবর্তের জেরেই বঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস: ওয়েদার আপডেট

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও পাকিস্তানিদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা দেখা গিয়েছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং আর্থিক দুরবস্থাকে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে মাত্র একজন, অর্থাৎ ২০ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন যে পাকিস্তানের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাকিরা দেশের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি, মূল্যবৃদ্ধি এবং শিল্পোৎপাদনে মন্থর গতি সাধারণ মানুষের উপর বড়সড় প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে অর্থনীতি নিয়ে জনমানসে আস্থার ঘাটতি ক্রমশ প্রকট হচ্ছে।

সমীক্ষার ফলাফলে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রবণতাও উঠে এসেছে। দেখা গিয়েছে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে আশাবাদের মাত্রা কিছুটা বেশি। একইভাবে বয়স্কদের তুলনায় তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যৎ নিয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে। শহরের মানুষের তুলনায় গ্রামীণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যেও আত্মবিশ্বাস বেশি দেখা গিয়েছে। প্রদেশভিত্তিক বিশ্লেষণে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মানুষ সবচেয়ে বেশি আশাবাদী বলে উঠে এসেছে। পাশাপাশি পাঞ্জাবের তুলনায় সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের বাসিন্দারাও তুলনামূলকভাবে বেশি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। নিম্ন-মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যেও আশাবাদের মাত্রা অন্যান্য গোষ্ঠীর তুলনায় কিছুটা বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে।

In Pakistan plagued by multiple crises Pakistanis themselves are losing faith.

আরও পড়ুন:যুদ্ধের আবহে অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখাই লক্ষ্য! বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কেন্দ্রের

তবে ভোক্তা আস্থা এবং বিনিয়োগ পরিবেশের ক্ষেত্রে ছবিটা আরও উদ্বেগজনক। মাত্র ৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তাঁরা বর্তমানে গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বড় ধরনের কেনাকাটার ক্ষেত্রে এই হার নেমে এসেছে মাত্র ৫ শতাংশে। একইসঙ্গে মাত্র ১৪ শতাংশ মানুষ পাকিস্তানে (Pakistan) অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ রয়েছে বলে মনে করেন। ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি উন্নতি করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মাত্র ২০ শতাংশ উত্তরদাতা। যদিও খাইবার পাখতুনখাওয়া, বেলুচিস্তান, গ্রামীণ এলাকা এবং অপেক্ষাকৃত সচ্ছল শ্রেণির মধ্যে এই আশাবাদ কিছুটা বেশি রয়েছে। তবুও সামগ্রিকভাবে সমীক্ষার ফলাফল পাকিস্তানের অর্থনীতি ও জনমনের বর্তমান অবস্থার এক উদ্বেগজনক চিত্রই তুলে ধরেছে, যা আগামী দিনে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।