বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সময়টা একেবারেই ভাল যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই তৃণমূলে ভাঙনের ছায়া নেমে এসেছে। সেই সঙ্গেই বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে তাঁকে পরপর তলব করছে সিআইডি। এই পরিস্থিতিতে খোদ ডায়মন্ড হারবারে অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল। অভিষেকের পাশাপাশি জাহাঙ্গির খান সহ ৪০-এর বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি (Abhijit Das Bobby)।
আরও বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়- (Abhishek Banerjee)
ববির অভিযোগ, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে অভিষেকের নির্দেশে তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। তখন পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনও কাজ দেয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পর পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ আসছে ঝেঁপে বৃষ্টি! কলকাতা সহ দক্ষিণের একাধিক জেলায় ঝড়-জলের পূর্বাভাসঃ আবহাওয়ার খবর
২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর ডায়মন্ড হারবারের কপাটহাট মোড়ে একটি দলীয় কর্মসূচিতে এসে হামলার মুখে পড়েন অভিজিৎ। অভিযোগ, তাঁর কোমর থেকে পা অবধি গুরুতর চোট লাগে। মারের আঘাতে তাঁর শিরদাঁড়ায় চিড় ধরে যায়। এমনকি পরিকল্পনা মাফিক মাথায় আঘাত করে তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনার পর দীর্ঘদিন সিএমআরআই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বিজেপি নেতা। পরবর্তীতে তাঁকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়।
সেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে অভিজিৎ ওরফে ববি বলেন, “আমি সেই সময় জেলা সভাপতি। প্রায় ৪৪ মিনিট আগেই খবর পেয়েছিলাম আমার উপর হামলা হতে পারে। পুলিশকে জানালেও কিছু করেনি। আমি চাইলে পালাতে পারতাম। তবে আমি পলাতক নই। আমি যদি পালিয়ে যেতাম, এখানে সংগঠন থাকত না। ওরা এটাই চাইত। আমায় আধমরা করে ফেলে রাখে। আমার শিরদাঁড়ায় চিড় আছে”।

প্রায় সাড়ে ৭ বছর পর ফের কেন পুলিশের দ্বারস্থ হলেন জিজ্ঞেস করায় বিজেপি নেতা বলেন, “ডায়মন্ড পুলিশ তো তখন অভিষেকের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেই জন্য কিছু করেনি। আমার উপর যারা হামলা চালিয়েছিল, ছাড়া পাবে না। গ্রেফতার হবে। এদের ছাড়া উচিত নয়”।
একদিকে বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপ বাড়ছে। সিআইডি-র একের পর এক তলব এড়াচ্ছেন তিনি। এই আবহে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিষেক সহ ৪০-এর বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মী ও প্রায় ১৫০-এর বেশি অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানালেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ ওরফে ববি। এতে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের চাপ আরও বাড়ল বলে মনে করছেন অনেকে।













