বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) দলীয় প্রতীক জোড়াফুলকে ঘিরে এবার বিতর্কের সূত্রপাত। চিত্রশিল্পী সোমনাথ চৌধুরী দাবি করেছেন, বহুল পরিচিত ওই প্রতীকটি আসলে তাঁরই তৈরি। তাঁর বক্তব্য, দলের জন্মলগ্নে প্রয়াত তৃণমূল নেতা অজিত পাঁজার অনুরোধে তিনি এই নকশা এঁকেছিলেন। যদিও দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, জোড়াফুল প্রতীকটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতে আঁকা।
তৃণমূল কংগ্রেসের(Trinamool Congress) জোড়াফুল বিতর্ক
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পরই কেন তিনি এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সোমনাথ চৌধুরী বলেন, “তৃণমূল তৈরির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন বীরভূমে মামাবাড়ি যাওয়ার সময় কাশফুল দেখতাম আর ভাবতাম নিজে কোনও দিন দল করলে এরকম কিছু একটা আঁকব৷ তখন কিন্তু জানতাম যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছবি আঁকেন না৷ পরে দেখলাম উনি জোড়াফুল প্রতীক নিজের আঁকা বলে দাবি করলেন৷ তখন থেকেই অপেক্ষায় ছিলাম, কবে ওঁর দাঁত, নখ ভাঙবে৷ সেদিন আমি মুখ খুলব৷”
শিল্পীর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের আগেই অজিত পাঁজার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। ছাত্র রাজনীতির সূত্রে তৈরি হওয়া সেই সম্পর্ক থেকেই একদিন তাঁর কাছে একটি বিশেষ লোগো তৈরির অনুরোধ আসে। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে সোমনাথবাবু বলেন, “সেই সময় আমরা সবাই মিলে ছাত্র পরিষদ করতাম৷ সেই সূত্রেই অজিত পাঁজার সঙ্গে আলাপ৷ উনি আমাকে খুব ভালবাসতেন৷ একদিন তিনিই আমাকে ডেকে বললেন, এরকম একটা লোগো লাগবে৷ আমি লোক পাঠাচ্ছি৷ আমি এঁকে দেওয়ার পর উনি দেখে বললেন, ঠিক আছে৷ এটা দিয়ে একটা বড় কাজ হবে৷ ১২টার সময় টিভি-টা খুলে দেখো, তাহলে বুঝতে পারবে এটা কোথায় ব্যবহৃত হয়েছে৷ তাহলেই বুঝতে পারবে তোমার ছবি কোন কাজে লাগল৷ তোমারও সেখানে একটা জায়গা থাকবে৷ তারপরই জানতে পারলাম তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হল৷ কিন্তু এরকম ধাক্কা কোনওদিনই পাইনি৷ আমার আঁকা ছবিকে অন্য কেউ নিজের আঁকা বলে দাবি করবে? তখন খুব খারাপ লেগেছিল৷”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে পরে দলের উচ্চস্তরে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু তখন তাঁকে চুপ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “কারও নাম বলব না, কিন্তু আমি পরে উপরমহলে এটা নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম৷ তাঁরা আমাকে পরে বলল, এটা নিয়ে তুমি মুখ খুলবে না৷ কারণ পাঁচ বছর অন্তর দল বদল হয়৷ অজিত পাঁজা পরে আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, বয়সে বড় হয়েও আমি তোমার কাছে জোড় হাত করে ক্ষমা চাইছি৷ একটা বাজে ব্যাপার হয়েছে আমাদের মধ্যে৷ কথা না বলেই উনি ইন্টারভিউ দিয়ে দিয়েছেন৷ এখন কিছু করো না৷ তখন আমি অজিত পাঁজাকেও বলেছিলাম, যেদিন সুযোগ পাবো আমি কিন্তু মুখ খুলব৷”

আরও পড়ুন : স্বাস্থ্য-অর্থ-শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ দফতরে কারা? বিজেপির সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকা ঘিরে জোর জল্পনা
শুধু অজিত পাঁজাই নন, তৎকালীন দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলে দাবি করেছেন সোমনাথ চৌধুরী। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি বলেও তাঁর অভিযোগ।এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তখন মুখ খুলতে পারিনি কারণ তাহলে আমার উপরে প্রতিশোধ নিত৷ রাজ্যের অনেক প্রাক্তন মন্ত্রীও জানতেন যে ওই প্রতীক আমার আঁকা৷” জোড়াফুল প্রতীকের প্রকৃত স্রষ্টা কে, সেই প্রশ্নে সোমনাথ চৌধুরীর এই দাবি রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।













