বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত (India) বিদেশি লগ্নি টানার জন্য বড় প্রয়াস মোদীর। জি-৭ শীর্ষসম্মেলনে অংশ নিতে ফ্রান্সের এভ্যাঁ-লে-ব্যাঁ শহরে পৌঁছে শুধু কূটনৈতিক বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পপতি ও কর্পোরেট সংস্থাগুলির প্রধানদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ তুলে ধরলেন তিনি। সরকারি সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ইউরোপের বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পরিকাঠামো, উৎপাদন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং রেল আধুনিকীকরণ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও উঠে এসেছে আলোচনায়।
জি৭ থেকে ভারতে (India) বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বড় পদক্ষেপ মোদীর!
গত এক দশকে ভারতকে (India) বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে মোদী সরকার। মজবুত গণতন্ত্র, স্থিতিশীল সরকার, স্বচ্ছ প্রশাসন, সাহসী অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিশাল কনজিউমার মার্কেট এই পাঁচটি মূল শক্তিকে সামনে রেখেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকগুলিতেও প্রধানমন্ত্রী সেই বার্তাই তুলে ধরেছেন বলে জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার আবহে ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশলেরই অংশ এই উদ্যোগ।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ফরাসি বহুজাতিক সংস্থা সাঁ-গবাঁর চেয়ারম্যান ও সিইও বেনোয়া বজাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, উৎপাদন ও নির্মাণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সাঁ-গবাঁর ভারতের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি এবং বিনিয়োগের প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, এই ধরনের সংস্থার বিনিয়োগ শুধু শিল্পোন্নয়নই ঘটায় না, দেশের যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করে। ভারতের ক্রমবর্ধমান অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নির্মাণ শিল্পের প্রসারে বিদেশি সংস্থাগুলির ভূমিকা যে গুরুত্বপূর্ণ, সেই বার্তাও তিনি তুলে ধরেন।
এছাড়াও ফরাসি রেল প্রযুক্তি সংস্থা অ্যালস্টমের সিইও মার্টিন সিয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে দ্রুত উত্থানশীল সংস্থা মিস্ট্রাল এআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আর্থার মেনশের সঙ্গেও বৈঠক করেন মোদী। অ্যালস্টমের সঙ্গে আলোচনায় ভারতের রেলব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, উচ্চগতির পরিবহণ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে কথা হয়। অন্যদিকে মিস্ট্রাল এআই-এর সঙ্গে বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারিক প্রয়োগ, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। AI ক্ষেত্রকে আগামী দিনের অন্যতম বৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে দেখছে ভারত, আর সেই কারণেই এই খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবসে’ তারকেশ্বরে মোদী, এক ঝাঁক স্পেশাল ট্রেন ঘোষণা রেলের, দেখুন টাইমটেবিল
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বৈঠক শুধুমাত্র বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নয়, বরং ভারতের (India) দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলেরও অংশ। উৎপাদন থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি থেকে রেল অবকাঠামো— বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়াতে চাইছে ভারত। জি-৭ সম্মেলনের মঞ্চে ইউরোপের শিল্পমহলের সঙ্গে মোদীর এই বৈঠকগুলি সেই বার্তাই স্পষ্ট করেছে। বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ভারত যে নিজেকে একটি নির্ভরযোগ্য, স্থিতিশীল এবং দ্রুত বিকাশমান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, এভ্যাঁ-লে-ব্যাঁর এই বৈঠকগুলি তারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

















