বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় রাস্তার খাবার ঝালমুড়ি এবার জাতীয় স্তরে আরও বড় পরিচিতি পেতে চলেছে। কয়েক মাস আগেও যা ছিল মূলত বাংলার গলি-মহল্লা, রেলস্টেশন (Indian Railways) কিংবা মেলার চেনা স্বাদ, এখন সেটিই ধীরে ধীরে দেশের অন্যতম পরিচিত স্ন্যাক্স হিসেবে উঠে আসছে। রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে প্রশাসনিক বৈঠক— সর্বত্র ঝালমুড়ির উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রচারের সময় ঝাড়গ্রামে এক সাধারণ দোকানির হাতে তৈরি ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই ঘটনার পর থেকেই এই খাবারটি জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে নজর কেড়েছে। অনেকের মতে, সেই মুহূর্তই ঝালমুড়িকে আঞ্চলিক পরিচয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে ‘ব্র্যান্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
এবার ঝালমুড়ি নিয়ে বড় পরিকল্পনা ভারতীয় রেলের (Indian Railways):
সম্প্রতি দিল্লিতে নীতি আয়োগের বৈঠকেও ঝালমুড়ি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজের হাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ঝালমুড়ি পরিবেশন করেন। শুধু মোদীই নন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-ও এই বাঙালি খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করেন বলে জানা গিয়েছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক ঝালমুড়িকে স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় এর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। কম তেল, কম ক্যালোরি এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছেও এটি ক্রমশ গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে (Indian Railways)।
আরও পড়ুন: বাড়ির ভিতর কাড়ি কাড়ি সোনা! সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি থেকে উদ্ধার ৪ কোটির গয়না
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেই ঝালমুড়িকে আরও বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় রেল। রেল মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে বন্দে ভারত, রাজধানী, শতাব্দী এবং দুরন্ত এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনগুলিতে যাত্রীদের জন্য স্ন্যাক্স হিসেবে ঝালমুড়ি পরিবেশনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বড় বড় রেলস্টেশনেও ভ্রাম্যমাণ খাদ্য স্টলের মাধ্যমে ঝালমুড়ি বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন মেট্রো শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারে বলে সূত্রের খবর। রেল কর্তৃপক্ষের ধারণা, স্বাস্থ্যকর ও সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে ঝালমুড়ি যাত্রীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করবে।
রেল মন্ত্রকের প্রস্তাব অনুযায়ী, ভ্রাম্যমাণ খাদ্য স্টল পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তির ভিত্তিতে লাইসেন্স দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের নির্ধারিত মূল্য এবং নির্দিষ্ট মান বজায় রেখে খাবার বিক্রি করতে হবে। সাধারণ যাত্রীদের নাগালের মধ্যে দাম রাখা হবে, যাতে প্রত্যেকে সহজেই এই খাবার কিনতে পারেন। একই সঙ্গে খাবারের গুণমান, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে। স্টলগুলির মাধ্যমে যাতে স্টেশন চত্বরে আবর্জনা না ছড়ায়, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন:আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের জন্য কারা আবেদন করতে পারবেন? রইল বিস্তারিত তথ্য
রেল (Indian Railways) কর্তৃপক্ষের মতে, ঝালমুড়ি শুধু একটি খাবার নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও অংশ। সেই ঐতিহ্যকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। প্রিমিয়াম ট্রেনের যাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ রেলযাত্রী, সকলের কাছেই ঝালমুড়িকে জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চাইছে রেল মন্ত্রক। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে খুব শিগগিরই দেশের বিভিন্ন স্টেশন ও ট্রেনে বাঙালির প্রিয় ঝালমুড়ির সুবাস ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।













