বাংলাহান্ট ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) যে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের চেহারা বদলে দিতে চলেছে, সেই আশঙ্কার কথা গত কয়েক বছর ধরে শোনা যাচ্ছিল। এবার তার বাস্তব প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থা ওরাকেলের কর্মী কাঠামোয়। সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রায় ২১ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ওরাকেল জানিয়েছে যে যেসব কাজ আগে এই কর্মীরা করতেন, সেগুলির একটি বড় অংশ এখন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি যেমন নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে, তেমনই তা কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন উদ্বেগও তৈরি করছে।
AI (Artificial Intelligence)-র কারণে জনপ্রিয় সংস্থায় ২১,০০০ ছাঁটাই, আতঙ্কে গোটা IT সেক্টর:
গত ৩১ মে প্রকাশিত ওরাকেলের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সংস্থার পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা এক বছরে ১ লক্ষ ৬২ হাজার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৪১ হাজারে। অর্থাৎ মাত্র ১২ মাসে প্রায় ২১ হাজার কর্মী সংস্থা থেকে বাদ পড়েছেন। একই সময়ে এআই (Artificial Intelligence) পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য সংস্থার অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, OpenAI-এর গ্রাহকদের জন্য বৃহৎ পরিসরের ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে ওরাকেল। সেই কারণে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কার্যক্ষমতা বাড়াতে সংস্থা মানবসম্পদের পরিবর্তে ক্রমশ এআই প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
ওরাকেলের তরফে জানানো হয়েছে, এআই প্রযুক্তির বিস্তৃত প্রয়োগের ফলে কর্মী পুনর্বিন্যাস ও ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া এখনও চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধু একটি সংস্থার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নয়, বরং প্রযুক্তি শিল্পে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ওরাকেল প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে স্বাস্থ্য প্রযুক্তি সংস্থা সেরনারকে অধিগ্রহণ করেছিল। সেই সময় সংস্থায় বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, অধিগ্রহণের সময় যে সংখ্যক কর্মী ছিল, এখন সেই সংখ্যাও অতিক্রম করে নীচে নেমে গিয়েছে কর্মীসংখ্যা।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিলেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। বর্তমানে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডেটা বিশ্লেষণ, গ্রাহক পরিষেবা এবং প্রশাসনিক নানা কাজ দ্রুতগতিতে এআই দ্বারা সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে বহু সংস্থা নতুন নিয়োগের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টার এক মন্তব্যও এই বিতর্ককে উসকে দিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, প্রচলিত অর্থে আইটি ও এমবিএ ডিগ্রির উপর নির্ভরশীল কর্মসংস্থানের যুগ দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং নতুন দক্ষতা অর্জন করাই আগামী দিনের চাবিকাঠি হবে।

আরও পড়ুন: মোদী সরকারের বড় উপহার বাংলাকে, ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট হচ্ছে হলদিয়া বন্দরে
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পেও এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশের শীর্ষ আইটি সংস্থা টিসিএস, ইনফোসিস এবং অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠান নতুন প্রকল্প ও বরাত পাওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। শেয়ার বাজারে তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও সেই চাপের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। যদিও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এআই কিছু চাকরি কমিয়ে দিলেও নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করবে। তবে তার জন্য কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জন এবং প্রযুক্তির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া জরুরি। ফলে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে শুধু ডিগ্রি নয়, ক্রমাগত শেখার মানসিকতাই সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে উঠতে চলেছে (Artificial Intelligence)।













