বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাম মন্দিরের (Ram Temple) ‘প্রসাদ’ বলে সাধারণ মিষ্টি বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। অনলাইন বিপণি সংস্থা আমাজনের (Amazon) প্ল্যাটফর্মে রাম মন্দিরের প্রসাদ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সেন্ট্রাল কনজিউমার প্রোটেকশন অথরিটি বা (CCPA) আমাজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। সংস্থাটিকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই ধরনের পণ্য আর যাতে প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত না করা হয়, সে বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিসিপিএ-র বক্তব্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কোনও পণ্যকে প্রসাদ হিসেবে তুলে ধরে বিক্রি করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন।
রাম মন্দিরের ‘প্রসাদ’ বলে সাধারণ মিষ্টি বিক্রির অভিযোগে Amazon (Amazon)-এর বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন কেন্দ্রের
সিসিপিএ-র তদন্তে উঠে এসেছে, আমাজনে ‘বিহারি ব্রাদার্স’-সহ কয়েকটি ব্র্যান্ডের মিষ্টিকে অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রসাদ হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছিল। ঘিয়ের লাড্ডু, খোয়ার লাড্ডু, বুন্দির লাড্ডু এবং দুধের পেড়ার মতো মিষ্টি বিভিন্ন প্যাকেজিংয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগ, প্যাকেটের গায়ে ‘অযোধ্যার শ্রী রাম মন্দিরের প্রসাদ’ কিংবা ‘ভগবান রামের আশীর্বাদ’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে অনলাইনে পণ্য কিনতে গিয়ে অনেক ক্রেতার মনে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, এগুলি সরাসরি মন্দিরের প্রসাদ বা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত পণ্য। সিসিপিএ এই বিষয়টিকেই ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার কারণ হিসেবে দেখেছে।
আরও পড়ুন: নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের জের, NTA-কে পরীক্ষা ব্যবস্থা ‘স্থায়ী ও সুরক্ষিত’ করার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্রের অনুমতি ছাড়াই মিষ্টিগুলিকে রাম মন্দিরের প্রসাদ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছিল। অভিযোগটি নজরে আসার পরই বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিসিপিএ। এরপর আমাজনকে জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নির্ধারিত অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় আবেগ ও প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক বা অনুমোদন না থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কোনও খাবার বা পণ্যকে প্রসাদ, ভোগ কিংবা মহাপ্রসাদ হিসেবে প্রচার করা যাবে না।
শুধু রাম মন্দির নয়, দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে সিসিপিএ। তাদের নির্ধারিত তালিকায় তিরুপতি মন্দির, বৈষ্ণোদেবী মন্দির এবং পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানও রয়েছে। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কোনও পণ্য বাজারজাত করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতি থাকা বাধ্যতামূলক। এর ফলে অনলাইনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা খাবার বা অন্যান্য সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের বিভ্রান্তি কমবে বলেই মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: ঘনিয়ে আসছে বড় সঙ্কট? AI-র দাপটে ভারতের ১০ টি ব্যাঙ্কে ‘খতম’ ১০,০০০ চাকরি
সিসিপিএ আরও স্পষ্ট করেছে, কোনও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিজেকে শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখিয়ে সম্পূর্ণ দায় এড়াতে পারে না। তাদের প্ল্যাটফর্মে কী ধরনের পণ্য এবং কী দাবি করে তা বিক্রি বা তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে, সেই বিষয়েও নজরদারি থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ও বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা দরকার বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। আমাজনের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অনলাইন বাজারে বিভ্রান্তিকর প্রচার ও ভুয়ো দাবির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তাই দেওয়া হল। পাশাপাশি, ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে অন্য সংস্থাগুলিকেও নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে (Amazon)।













