বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দরের (Haldia Port) জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার এই বন্দরে ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট তৈরী করার ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে দেশের ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট-সুবিধাযুক্ত বন্দরের তালিকায় নতুন সংযোজন হল হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স। এতদিন পর্যন্ত দেশের ৪০টি বন্দর এই মর্যাদা পেয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের পর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪১।
হলদিয়া বন্দরকে (Haldia Port) মর্যাদা দিল কেন্দ্রীয় সরকার
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সম্প্রতি একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, অভিবাসন ও বিদেশি আইন, ২০২৫-এর আওতায় হলদিয়া বন্দরকে ইমিগ্রেশন চেক পোস্টের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। ২২ জুন, সোমবার প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করার কথা জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, অর্থনীতি ও বন্দর সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে পূর্ব ভারতের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড আরও প্রসারিত হতে পারে। বিশেষত আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ, বিদেশি জাহাজ চলাচল এবং ক্রুজ পর্যটনের ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিদেশি পর্যটকদের আগমনও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার বাস্তব সুবিধাও রয়েছে। হলদিয়া বন্দরে নিয়মিত বিদেশি জাহাজের আনাগোনা হয় এবং সেসব জাহাজে বিভিন্ন দেশের নাবিক ও কর্মীরা থাকেন। এতদিন তাঁরা বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি পেতেন না। পণ্য খালাস বা বোঝাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পরই জাহাজে ফিরে যেতে হত। নতুন ব্যবস্থার ফলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে তাঁরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বন্দরে প্রবেশ করতে পারবেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কলকাতা বন্দরের উপর চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে ১৯৬৮ সালে হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। পরে ১৯৭৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু হয় সেখানে। বর্তমানে এটি পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন : ফাইভ স্টার কিচেনে হবে রান্না, ডিমের বদলে পড়ুয়াদের মিড ডে মিলে কী দেবে ইসকন?
বর্তমানে দেশের যে বন্দরগুলিতে ইমিগ্রেশন চেক পোস্টের সুবিধা রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মুম্বই, কোচিন, নিউ মাঙ্গালোর, মোরমুগাও, চেন্নাই, কাট্টুপল্লি, বিশাখাপত্তনম, পোর্ট ব্লেয়ার, ভিঝিঞ্জাম, হাজিরা এবং পিপাভাভ বন্দর। সেই তালিকাতেই এবার জায়গা করে নিল পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স। এই স্বীকৃতির ফলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বন্দর পরিষেবা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে হলদিয়ার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।













