বাংলাহান্ট ডেস্ক: আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে মোদীকে (Narendra Modi) আমন্ত্রণ পাঠালো ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের আবহে নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ইরান। এবার আলোচনার কারণ, ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক আগ্রহ। একটি সূত্রের দাবি, এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও ভারত সরকার এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবুও আমন্ত্রণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কূটনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে মোদীকে (Narendra Modi) আমন্ত্রণ ইরানের
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যু হয় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। প্রায় ৩৬ বছর ধরে তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ইরান পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে একাধিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে গিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইসলামি রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর পর দ্রুত সমাধিস্থ করার প্রথা থাকলেও, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া দীর্ঘদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়। অবশেষে ইরান সরকার শেষকৃত্যের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে (Narendra Modi)।
আরও পড়ুন: রিক্সাচালকের ছেলে থেকে UPSC জয়! অপমানকে শক্তি করে IAS হয়ে ইতিহাস গড়লেন গোবিন্দ জয়সওয়াল
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে খামেনেইয়ের শেষকৃত্য সংক্রান্ত বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান। ৭ জুলাই ইরানের পবিত্র শহর কোমে একটি বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এরপর ৯ জুলাই তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হবে। তেহরানের দাবি, এই কয়েক দিনের কর্মসূচিতে প্রায় ২ কোটি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। ১৯৮৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতোল্লা রুহুল্লা খোমেইনির শেষকৃত্যে যে বিপুল জনসমাগম হয়েছিল, খামেনেইয়ের ক্ষেত্রে সেই রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে বলে মনে করছে ইরান প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদীকে এই আমন্ত্রণ শুধুমাত্র একটি শোকানুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান নয়, বরং ভারত-ইরান সম্পর্কের গুরুত্বেরও প্রতিফলন। জ্বালানি, বাণিজ্য, চাবাহার বন্দর প্রকল্প এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। ফলে এমন একটি অনুষ্ঠানে ভারতের উপস্থিতি ইরানের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদী ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন, নাকি ভারতের পক্ষ থেকে অন্য কোনও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

আরও পড়ুন: দেশ ছেড়ে পালিয়েও রেহাই নয়! নীরব মোদীর বিরুদ্ধে বড় রায় ব্রিটেনের আদালতে
এদিকে এই অনুষ্ঠান ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমীকরণও বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। সূত্রের খবর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকতে পারেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং আফ্রিকার একাধিক মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আরব বিশ্বের কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ফলে সেই দেশগুলির প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। সব মিলিয়ে আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের শেষকৃত্য শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং তা আগামী দিনের মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (Narendra Modi)।













