রিক্সাচালকের ছেলে থেকে UPSC জয়! অপমানকে শক্তি করে IAS হয়ে ইতিহাস গড়লেন গোবিন্দ জয়সওয়াল

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের প্রশাসনিক পরিষেবার ইতিহাসে এমন অনেক সাফল্যের গল্প (Success Story) রয়েছে, যা শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কাহিনি নয়, বরং কঠোর সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। সেই তালিকায় অন্যতম উজ্জ্বল নাম গোবিন্দ জয়সওয়াল। উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই যুবকের জীবনের শুরুটা ছিল চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে। তাঁর বাবা নারায়ণ জয়সওয়াল রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। পরিবারের পাঁচ সদস্যের ভরণপোষণ, সন্তানের পড়াশোনা—সবকিছুর দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী, কিন্তু সেই অভাবই একদিন গোবিন্দকে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পদে পৌঁছে দেয়।

গোবিন্দ জয়সওয়ালের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

গোবিন্দের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া একটি ঘটনা ঘটে মাত্র ১১ বছর বয়সে। এক ধনী বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে অপমানিত হতে হয়েছিল শুধুমাত্র তাঁর বাবার পেশার কারণে। বন্ধুর পরিবারের লোকজন তাঁকে জানিয়ে দিয়েছিল, একজন রিকশাচালকের ছেলের সঙ্গে তাদের সামাজিক দূরত্ব রয়েছে। সেই অপমান ছোট্ট গোবিন্দের মনে গভীর দাগ কেটে যায়। তখনই তিনি উপলব্ধি করেন, সমাজে সম্মান অর্জন করতে হলে বড় কিছু করতে হবে। সেদিনই তিনি স্বপ্ন দেখেন আইএএস অফিসার হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের পথ মোটেও সহজ ছিল না। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মাকে হারান তিনি। পরিবারের আর্থিক সংকট আরও বেড়ে যায়। বাবাই তখন তিন বোন ও একমাত্র ছেলেকে মানুষ করার দায়িত্ব একা হাতে সামলাতে থাকেন (Success Story)।

আরও পড়ুন: আকাশযুদ্ধে শক্তি বাড়াতে বড় পদক্ষেপ বাংলাদেশের, নজরে চিনের অত্যাধুনিক J-10CE

বারাণসীর একটি ছোট ১০ ফুট বাই ১২ ফুটের ঘরে বড় হয়েছেন গোবিন্দ। বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। অনেক সময় দিনে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকত না। তবুও তিনি কেরোসিনের প্রদীপের আলোয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতেন। আশপাশের মানুষ তাঁকে নিরুৎসাহিত করতেন। কেউ বলতেন, “পড়াশোনা করে কী হবে? শেষ পর্যন্ত তো রিকশাই চালাতে হবে।” এমনকি তাঁর বোনদের অন্যের বাড়িতে কাজ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গোবিন্দ এই কটাক্ষগুলোকে দুর্বলতা নয়, বরং নিজের শক্তিতে পরিণত করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাগ্য বদলানো সম্ভব।

ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তিনি দিল্লি পাড়ি দেন। সেখানে জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। অর্থের অভাবে অনেক দিন একবেলা খাবার খেয়েই কাটাতে হয়েছে। নিজের খরচ চালাতে গণিতের টিউশন পড়াতেন। অন্যদিকে ছেলের স্বপ্নপূরণের জন্য তাঁর বাবা নিজের জমি পর্যন্ত বিক্রি করে দেন। সেই সময় বাবার শারীরিক অবস্থাও ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল। তবুও গোবিন্দ লক্ষ্য থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে যাননি। ইংরেজি নয়, হিন্দি মাধ্যমেই পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। দর্শন এবং ইতিহাস ছিল তাঁর ঐচ্ছিক বিষয়। বহু প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে তিনি দেখিয়ে দেন যে ভাষা নয়, সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হল নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়।

Success Story of Govind Jaiswal will amaze you

আরও পড়ুন: দেশ ছেড়ে পালিয়েও রেহাই নয়! নীরব মোদীর বিরুদ্ধে বড় রায় ব্রিটেনের আদালতে

অবশেষে ২০০৬ সালে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য (Success Story) আসে। মাত্র ২২ বছর বয়সে প্রথম প্রচেষ্টাতেই ইউপিএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ৪৮তম স্থান অর্জন করেন গোবিন্দ জয়সওয়াল। দেশের অন্যতম কনিষ্ঠ সফল প্রার্থীদের মধ্যে তিনি জায়গা করে নেন। আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্নও পূরণ হয় তাঁর। প্রথম বেতনের টাকা তিনি বাবার চিকিৎসার জন্য ব্যয় করেছিলেন, যা তাঁর পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতারই পরিচয় দেয়। পরে তিনি AGMUT ক্যাডারের আইএএস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চশিক্ষা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত। গোবিন্দ জয়সওয়ালের জীবনকাহিনি আজও অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে প্রেরণার উৎস, যা প্রমাণ করে যে প্রতিকূল পরিস্থিতি কখনও স্বপ্নের পথে শেষ বাধা হতে পারে না।