বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের টানাপোড়েনের প্রভাব ধীরে ধীরে ভারতের গৃহস্থ জীবনেও পড়তে শুরু করেছে। গত কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এলপিজি গ্যাস (LPG Gas Cylinders) সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ উঠছে। অনেক গ্রাহকের দাবি, বুকিংয়ের পরেও নির্ধারিত সময়ে এলপিজি সিলিন্ডার পৌঁছাচ্ছে না। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বারবার জানিয়েছে যে দেশে গ্যাসের কোনও বড় ধরনের সংকট নেই, তবুও বহু জায়গা থেকে সরবরাহে বিলম্বের খবর সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই রান্নার গ্যাসের ভরতুকি সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক, যা নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এলপিজি (LPG Gas Cylinders) গ্রাহকদের ভর্তুকির জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের
মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এলপিজি গ্যাসে (এলপিজি Gas Cylinders) সরকারি ভরতুকি পেতে হলে গ্রাহকদের জন্য ই-কেওয়াইসি বা ইলেকট্রনিক ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়সীমা হিসেবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে যাঁরা ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করবেন না, তাঁরা ভবিষ্যতে ভরতুকি পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। বর্তমানে কলকাতায় সাধারণ গৃহস্থালি ব্যবহারের ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারে ভরতুকির পরিমাণ খুবই সীমিত, প্রায় ১৯ টাকা ৫৭ পয়সা। তবে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় থাকা গ্রাহকরা প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ভরতুকি পান। ফলে এই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য ই-কেওয়াইসি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে মোদীকে আমন্ত্রণ, নজরে ভারত-ইরান কূটনীতি
নতুন নির্দেশিকা প্রকাশের পরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মনে করতে শুরু করেন যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন না করলে তাঁদের গ্যাস সংযোগ বা সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে জল্পনা বাড়তেই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়। মন্ত্রকের বক্তব্য, ই-কেওয়াইসি সংক্রান্ত নিয়ম শুধুমাত্র ভরতুকি পাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ যাঁরা ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করবেন না, তাঁদের ভরতুকি বন্ধ হতে পারে, কিন্তু সাধারণ এলপিজি পরিষেবা আপাতত বন্ধ করার কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছে সরকার।
বুধবার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে আরও পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে এই নিয়ম শুধুমাত্র সেইসব গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য, যাঁরা এখনও পর্যন্ত ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করেননি। যাঁদের আগে থেকেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ রয়েছে, তাঁদের নতুন করে কিছু করার প্রয়োজন নেই। তবে উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে বছরে একবার ই-কেওয়াইসি হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এর মাধ্যমে প্রকৃত গ্রাহকদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং ভরতুকির অর্থ সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছনো নিশ্চিত করা যাবে। একই সঙ্গে ভুয়ো বা অচল সংযোগ চিহ্নিত করতেও এই পদক্ষেপ কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রিক্সাচালকের ছেলে থেকে UPSC জয়! অপমানকে শক্তি করে IAS হয়ে ইতিহাস গড়লেন গোবিন্দ জয়সওয়াল
তেল বিপণন সংস্থাগুলিও এই প্রক্রিয়াকে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য গ্যাস (LPG Gas Cylinders) ডিলারদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলেছে। বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করার কাজ চলছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই দেশের প্রায় ৯৩ থেকে ৯৫ শতাংশ গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি গ্রাহকদেরও দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ভরতুকি পেতে কিংবা কোনও প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাস সরবরাহ ও ভর্তুকি সংক্রান্ত সুবিধা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।













