বিশ্বব্যাপী মন্দার আবহেই দৌড়বে ভারতীয় অর্থনীতি! ভবিষ্যদ্বাণীর মাধ্যমে কী জানাল ১৫০ বছরের পুরনো ব্যাঙ্ক?

Published on:

Published on:

This bank has big predictions for the Indian economy.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী মন্দার আবহেই ভারতীয় অর্থনীতির (Indian Economy) জন্য সুসংবাদ সামনে এসেছে। গত ২৫ জুন ১৫০ বছরের পুরনো গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক গোল্ডম্যান স্যাক্স জানিয়েছে, মার্কিন-ইরান চুক্তির জেরে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির আবহ ফিরে আসায় ভারতের অর্থনীতি আরও দ্রুত ৬.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে এই গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কের গবেষণা শাখা অনুমান করেছিল যে, ইজরায়েল, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চলতি অর্থবর্ষে অর্থনীতি ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। মূলত, গোল্ডম্যান স্যাক্স তার ‘ভারত: মার্কিন-ইরান চুক্তির পর উন্নত ম্যাক্রো আউটলুক’ শীর্ষক রিপোর্টে বলেছে যে, ‘সামগ্রিকভাবে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে প্রকৃত GDP বৃদ্ধি পূর্বের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়াও, আমাদের কমোডিটি টিমও তেলের দামের পূর্বাভাস কমিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতের মোট বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং জ্বালানি আমদানির ৬০ শতাংশেরও বেশি সম্পন্ন হয়।’

বিশ্বব্যাপী মন্দার আবহেই দৌড়বে ভারতীয় অর্থনীতি (Indian Economy)!

অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে: জানিয়ে রাখি যে, ভারতীয় অপরিশোধিত তেলের মূল্য তালিকা যা টানা ৩ মাস ধরে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরে লেনদেন হচ্ছিল গত জুন মাসে তা কমে ৮৬.৩১ ডলারে নেমে এসেছে। গত ২৪ জুন, ভারতীয় অপরিশোধিত তেলের মূল্য তালিকা ছিল ব্যারেল প্রতি ৭০.৭১ ডলার। গোল্ডম্যান স্যাক্স বলেছে যে, ‘সামগ্রিকভাবে আমাদের কমোডিটি টিম দ্বারা সাম্প্রতিক অবনমনের ফলে—যা অনুযায়ী ২০২৬ ক্যালেন্ডার ইয়ারের তৃতীয়-চতুর্থ ত্রৈমাসিকে তেলের দামের গড় মূল্য পূর্বের ৯২ ডলার থেকে কমে ৮২ ডলার এবং ২০২৭ ক্যালেন্ডার ইয়ারে গড় মূল্য পূর্বের ৮০ ডলার থেকে কমে ৭৫ ডলার হয়েছে। আমরা ২০২৬ ক্যালেন্ডার ইয়ারের জন্য আমাদের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির অনুমান ০.৩ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৬.৮ শতাংশ করেছি।’ করোনার মতো ভয়াবহ মহামারীর পর ২০২৭ অর্থবর্ষই হবে প্রথম বছর, যখন ভারতীয় অর্থনীতির বৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসতে পারে। উল্লেখ্য যে, উচ্চ খরচ ও বিনিয়োগের সুবাদে ২০২৬ অর্থবর্ষে অর্থনীতিতে ৭.৭ শতাংশ বৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল।

This bank has big predictions for the Indian economy.

মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাসও হ্রাস পেয়েছে: গোল্ডম্যান স্যাক্স ভারতের জন্য তাদের মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাসও কমিয়েছে। এই ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক ভারতের জন্য তাদের মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস ৫.১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪.৯ শতাংশ করেছে। রিপোর্ট অনুসারে, পূর্বের প্রত্যাশার বিপরীতে, বিশ্বব্যাপী ইউরিয়ার মূল্যের ব্যাপক উন্নতি সার ভর্তুকি বিলের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে। এছাড়াও, সাম্প্রতিক আমদানি টেন্ডারগুলি মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের চরম পর্যায়ের সর্বোচ্চ স্তর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে এসেছে এবং তেলের কম দামের সঙ্গে মিলিত হয়ে এটি স্বল্পমেয়াদী রাজস্ব চাপ কমাতে সাহায্য করবে। তবে, ব্যাঙ্কটি সতর্ক করেছে যে, আবহাওয়াজনিত অনিশ্চয়তা স্বল্প মেয়াদে চাহিদার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: ৬৭২.৫৯ বিলিয়ন ডলার! ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে বিপুল বৃদ্ধি

সুদের হার কী বাড়বে: জানিয়ে রাখি যে, মার্কিন-ইরান চুক্তি ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি হ্রাস করে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমিয়ে ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তির ফলে তেলের দাম কমবে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। যা ভারতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমাতে পারে এবং এর ফলে RBI সম্ভবত ২০২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। ২০২৭ অর্থবর্ষের পর, টেকসই অভ্যন্তরীণ চাহিদা, রফতানির স্থিতিশীলতা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির অনুকূল পরিস্থিতি ভারতের বৃদ্ধিকে চালিত করতে পারে।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত বাড়ি! নিখোঁজ আর্জেন্টাইন ফুটবলারের স্ত্রী-সন্তান

এদিকে, এই কারণগুলি থেকে অটোমোবাইল সেক্টর লাভবান হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গোল্ডম্যান স্যাক্স এখনও আশা করছে যে, RBI ২০২৬ সালে ২ টি কিস্তিতে সুদের হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়াবে। ব্যাঙ্কটি জানিয়েছে, ‘যদি পলিমারের উচ্চমূল্য এবং মূল পণ্যের মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে ব্যবধান আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে সীমিত বলে প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রে প্রধান পণ্যগুলির মূল্যস্ফীতির বৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে।’