বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাড়তে থাকা জনসংখ্যার সাথে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে অনেকটাই। তবে রাস্তার পাশাপাশি ফুটপাত (Footpath) থাকাটাও কিন্তু খুবই প্রয়োজনীয়। কারণ একদিকে যেমন ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারাটা সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার তেমনি হাঁটা শরীরের পক্ষেও উপকারী। সম্প্রতি এই ফুটপাত সংক্রান্ত একটি মামলা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে জানানো হয়, রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনা কমানোর জন্য ফুটপাত থাকাটা বাধ্যতামূলক। এবার সেই রায় নিয়েই রাজ্যে পথ নিরাপত্তা ও ফুটপাত নিয়ে এক বৈঠকের আয়োজন হয়েছিল।
ফুটপাত থাকাটা বাধ্যতামূলক ও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার
গত বৃহস্পতিবার নিউটাউনের ক্যাম্পাসে পথ নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা একাধিক প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে একটি বৈঠক করে আইআইটি কর্তৃপক্ষ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের বিশেষ সচিব পাপিয়া ঘোষ। খড়গপুর আইআইটির মতে, ই এম বাইপাস থেকে শুরু করে জাতীয় সড়কে ফুটপাত থাকাটা যেমন জরুরি তেমনি রাস্তায় পর্যাপ্ত পরিমাণে সিগন্যাল থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিন পাপিয়া ঘোষ বলেন, বর্তমান সরকার পথচারীদের ফুটপাত ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। বৈঠকে উপস্থিত আইআইটি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ভার্গব মৈত্রের মতে, ‘২০২৪ সালের কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট বলছে, গোটা দেশে শুধুমাত্র পথ দুর্ঘটনায় ১,৮০,০০০ মানুষের প্রাণ গিয়েছে’।
আরও পড়ুনঃ মনীষী-বিপ্লবীদের নামে হবে রাস্তা, কারা কিভাবে নেবেন সিদ্ধান্ত? জানালেন কার্তিক মহারাজ
তিনি আরও জানান, প্রায় দুই লক্ষ মৃত্যুর মধ্যে ৬,৫০০ ও বেশি মৃত্যু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। তার মধ্যে পথচারীদের সংখ্যাটা প্রায় ৭০%। তাই ফুটপাত ফাঁকা রাখতে হবে। এতে যেমন মানুষ হাঁটার জন্য রাস্তা পাবেন তেমনি গাড়ির উপর নির্ভরতা কমলে দূষণের পরিমাণও কমবে। আবার অন্যদিকে মেন রাস্তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনও কমবে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে হকার উচ্ছেদ নিয়ে যখন বিতর্ক বেড়েই চলেছে, তখন সুপ্রিম কোর্টে দুর্ঘটনার একটি মামলার রায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সকলেই। আদালতের মতে, ফুটপাতে হাঁটা প্রতিটা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সংবিধানের ১৯(১)(ডি) ধারা সমস্ত নাগরিকদের স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার দেয়। তাই শুধুমাত্র ফুটপাত বানিয়ে ছেড়ে দিলেই হবে না। সেটা মানুষের হাঁটার উপযোগী কি না সেটাও নিশ্চিত করতে হবে পুরসভা কিংবা স্থানীয় প্রশাসনকে।













