বাবা করতেন নর্দমা খোঁড়ার কাজ! মায়ের সঙ্গে সবজি বিক্রি করা ছেলেই আজ IPS, চমকে দেবে শরণের কাহিনি

Published on:

Published on:

Success Story of Sharan Kamble will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: সোলাপুরের (Solapur) এক সাধারণ পরিবারের ছেলে শরণ কাম্বলে (Sharan Kamble) সাফল্যের (Success Story) মুখ দেখার আগে তাঁর জীবনের শুরুটা ছিল নানা অভাব-অনটনের মধ্যে। যে বাড়িতে তিনি বড় হয়েছেন, সেখানে বিদ্যুৎ বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বলতে প্রায় কিছুই ছিল না। মাটির বাড়িতেই চলত পড়াশোনা। স্কুলে পৌঁছনোর জন্য কখনও দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে হয়েছে, আবার কখনও বাসের ছাদে চেপেও যাতায়াত করতে হয়েছে। কিন্তু এই প্রতিকূলতা তাঁর পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বরং ছোটবেলার সেই কঠিন অভিজ্ঞতাই ধীরে ধীরে তাঁকে আরও দৃঢ় এবং আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল। আজ সেই শরণই UPSC-র সাফল্য পেরিয়ে একজন IPS অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শরণ কাম্বলের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

শরণের পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না। তাঁর বাবা শ্রমিক হিসেবে নর্দমা খোঁড়ার কাজ করতেন। সংসারের খরচ চালাতে তাঁর মাকে খামার থেকে সবজি এনে বিক্রি করতে হত। ছোট বয়স থেকেই তাই মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শরণ। পড়াশোনার ফাঁকে মায়ের সঙ্গে সবজি বিক্রি করতে যেতেন তিনি। পরিবারের পরিস্থিতি তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছিল, জীবনে এগিয়ে যেতে হলে নিজের চেষ্টাতেই পথ তৈরি করতে হবে। একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশবের কথা বলতে গিয়ে শরণ জানিয়েছেন, সেই সময়ের অভাব তাঁকে কখনও স্বপ্ন দেখতে বাধা দেয়নি। বরং কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই বড় কিছু করার জেদ তৈরি হয়েছিল তাঁর মধ্যে (Success Story)।

আরও পড়ুন: জল বোর্ডে দুর্নীতির অভিযোগ! গ্রেফতার দিল্লির প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা আপ নেতা সত্যেন্দ্র জৈন

পড়াশোনার ক্ষেত্রেও কখনও আপস করেননি শরণ। কঠোর পরিশ্রম করে বৃত্তি অর্জন করেন এবং পরে বি.টেক পড়ার সুযোগ পান। কলেজে গিয়ে নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। সহপাঠীদের অনেকেই ইংরেজিতে সাবলীল ছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধাও তাঁদের ছিল। শরণ অবশ্য নিজেকে পিছিয়ে রাখেননি। ক্লাসের পিছনের সারিতে বসেও মন দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। নিজের সীমাবদ্ধতাকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে আরও বেশি পরিশ্রম করার সিদ্ধান্ত নেন। ধীরে ধীরে তাঁর ফলাফলও বদলাতে থাকে এবং তিনি ক্লাসের মেধাবী ছাত্রদের মধ্যে জায়গা করে নেন।

পড়াশোনা শেষ করার পর শরণের সামনে এসেছিল বড় একটি সুযোগ। একটি নামী সংস্থা থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার বার্ষিক প্যাকেজের চাকরির প্রস্তাব পান তিনি। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনেকেই তাঁকে সেই চাকরি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু শরণের লক্ষ্য তখন অন্য জায়গায়। দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থেকেই তিনি কর্পোরেট চাকরির বদলে সিভিল সার্ভিসের পথ বেছে নেন। শুরু হয় UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি। পথটা সহজ ছিল না, কিন্তু ছোটবেলা থেকে পাওয়া সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তাঁকে হাল ছেড়ে দিতে দেয়নি। নিজের লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিয়মিত প্রস্তুতি চালিয়ে যান তিনি।

Success Story of Sharan Kamble will amaze you.

আরও পড়ুন: পুরভোটের আগে বড় বিপত্তি! পর্যাপ্ত ইভিএম নেই, হাইকোর্টে ছুটল রাজ্য নির্বাচন কমিশন

শেষ পর্যন্ত পরিশ্রমের ফলও আসে। ২০১৯ সালে UPSC CAPF পরীক্ষায় সর্বভারতীয় অষ্টম স্থান অর্জন করেন শরণ কাম্বলে। এরপর ২০২০ সালের UPSC-তে ৫৪২তম র‍্যাঙ্ক করে IPS ক্যাডারে নির্বাচিত হন। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। তাঁর UPSC যাত্রায় একাধিকবার সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং তৃতীয় প্রচেষ্টায় Indian Forest Service পরীক্ষাতেও ১২৭তম স্থান অর্জন করেন বলে জানা গিয়েছে। মায়ের সঙ্গে সবজি বিক্রি করা সেই তরুণের জীবন আজ তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয় (Success Story) দারিদ্র্য, সীমাবদ্ধতা কিংবা সুযোগের অভাব যে স্বপ্ন পূরণের পথে শেষ কথা নয়, শরণ কাম্বলের যাত্রা তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।