বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাঙালির শনি-রবির ছুটি কিংবা হুট করে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা হলেই প্রথম গন্তব্য দিঘা (Digha)। যাতায়াতের মাধ্যম অনেক থাকলেও বাস কিংবা নিজস্ব গাড়িতেই যেতে বেশি পছন্দ করেন সিংহভাগ। আর এবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর সুখবর রইল সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য। নন্দকুমার-দিঘা জাতীয় সড়ক (Nandakumar-Digha Highway) সম্প্রসারণ নিয়ে সামনে এল বড় আপডেট।
Nandakumar to Digha Highway সম্প্রসারণ নিয়ে বড় আপডেট
দিঘা যাওয়ার পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও মূল রাস্তা ছিল একটাই। যে কারণে বাস, প্রাইভেট গাড়ি থেকে মালবাহী যানবাহনের জেরে যানজট রোজকার সমস্যায় পরিণত হয়েছিল। তবে এবার আর চিন্তা নেই, কারণ দীর্ঘ জটিলতার পর অবশেষে শুরু হচ্ছে নন্দকুমার-দিঘা রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহনের কাজ। শুরুতে চাউলখোলা থেকে দিঘা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মিটার রাস্তা চওড়া করে সাড়ে ১০ মিটার করার জন্য অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এখানেই শেষ নয়, রামঙ থেকে অলংকারপুর গ্রিনফিল্ড বাইপাস তৈরীর জন্যও অনুমোদন মিলেছে।
আসলে কলকাতা থেকে দিঘা যাওয়ার নন্দকুমার থেকে দিঘা অবধি যে রেস্ট গিয়েছে সেটি নামে 116B জাতীয় সড়ক হলেও প্রায় ৮৮ কিমি এই রাস্তা মাত্র সাড়ে পাঁচ মিটার চওড়া। এর সাথে রাস্তার দুদিকে দোকান থেকে শুরু করে ঘনবসতি থাকায় গতি কমে যায় অনেকটাই। এবার এই রাস্তারই ক্ষেত্র বাড়ানো হবে। নন্দকুমার থেকে দিঘার দিকে যেতে প্রথম ২৫ কিমি মত রাস্তা সাড়ে দশ মিটার চওড়া কিন্তু এরপর চাউলখোলা অবধি প্রায় ১৪ কিমি রাস্তা মাত্র সাড়ে পাঁচ মিটার চওড়া। এই অংশটিও সাড়ে ১০ মিটার করে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ তারাতলার দুর্ঘটনার নেপথ্যে কি ছিল কারণ? ভুল নকশা-চরম গাফিলতি প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
আড়াই মাসে শেষ হবে জমি অধিগ্রহণ
যেমনটা জানা যাচ্ছে রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ১১-১২ হেক্টর জমির প্রয়োজন হবে। ১৯৫৬ সালের জাতীয় সড়ক অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়েই জমি নেওয়া হবে যে জানা যাচ্ছে। এর জন্য আড়াই মাসের ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। জমি নেওয়ার পক্রিয়া শেষ হলেই টেন্ডার ডাকা হবে। বাকি অংশ অর্থাৎ রামনগর-অলঙ্কারপুর বাইপাসের জন্য মোট ৪৩ হেক্টর জমির প্রয়োজন ছিল সেটা আগেই নেওয়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মোট প্রয়োজনের ৯০% না হওয়ায় কাজ আটকে ছিল। যে কারণে এই প্রকল্প বাতিলের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।
৮৯০ কোটি খরচে চওড়া হবে নন্দকুমার-দিঘা জাতীয় সড়ক
তবে এবার দ্রুতগতিতে এগোবে কাজ। এই প্রকল্পের জন্য আনুমানিক ৮৯০ কোটি টাকা খরচ হবে। যার মধ্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা লাগবে শুধুমাত্র জমি অধিগ্রহণেই। এরপর দুটি পর্যায়ে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। ফলে দিঘা থেকে শুরু করে মন্দারমণি যাওয়া পর্যটকদের গন্তব্যে পৌঁছানো আরও সহজ হবে ও যাত্রাপথের সময়ও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।













