তারাতলার দুর্ঘটনার নেপথ্যে কি ছিল কারণ? ভুল নকশা-চরম গাফিলতি প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Published on:

Published on:

Faulty Plan or carelessness What is the reason of Kolkata's Taratala Godown Collapse
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার রদবদল হয়ে দুমাস ও কাটেনি, এরই মধ্যে তারাতলার দুর্ঘটনা (Taratala Godown Collapse)। এমন একটা বিপর্যয়ের মোকাবিলা কিভাবে করবে বিজেপি সরকার? মর্মান্তিক খবর কানে আসার পরেই অনেকের মাথায় এসেছিল এই প্রশ্ন। তবে জিরো হওয়ার থেকে শুরু করে এপর্যন্ত প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া যা যা করণীয় সেটাই হয়েছে। কিন্তু কেন হল এমন একটা বিপর্যয়? আর ভবিষ্যতে এমন পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে আবার এমন কোনো বিপর্যয় রুখতে কি ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

তারাতলায় নির্ণীয়মান কাঠামো ধসে দুর্ঘটনা

গতবুধবার বেলা ১২টা বেজে ৭মিনিটে বিভীষিকার মত হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পরে নির্ণীয়মান গুদাম। দ্রুত উদ্ধার কাজ চালু হলেও সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এখনও। বেসরকারি হিসাব বলছে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১৫তে। এছাড়া আহত হয়ে হাসপাতলে ভর্তি এখনও ৩৩ জন। পুলিশ, দমকল, NDRF ও সেনা সকলে মিলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যেই চালাচ্ছে উদ্ধার কাজ। তবে ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে পচা দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে। তবুও প্রাণের স্পন্দন খুঁজছে NDRF।

কিভাবে হল তারাতলার মর্মান্তিক বিপর্যয়?

নিম্ন মানের নির্মাণ সরঞ্জাম নাকি পরিকাঠামোর নক্সাতেই ছিল গলদ? সরকারি গাফিলতি নাকি মালিকের কম খরচে দ্রুত পরিকাঠামো তৈরির চেষ্টা? কি কারণে দুমুঠো অন্নের যোগান দিতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হল ১৫ জন শ্রমিককে? উঠছে হাজারো প্রশ্ন। আজকের প্রতিবেদনে তারই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবে বাংলাহান্ট।

Taratala Godown Roof Collapsed

আরও পড়ুনঃ ‘নেতাজি-শ্যামাপ্রসাদের ভূমিতে লাভ জিহাদ হবে না’, কড়া আইন আনার হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর 

কি বলছেন নির্মাণ ও কাঠামো বিশেষজ্ঞ চন্দ্রচূড় ভট্টাচার্য?

নির্মাণ ও কাঠামো বিশেষজ্ঞ চন্দ্রচূড় ভট্টাচার্যের মতে, তারাতলায় যে গুদামের নির্মাণ চলছিল সেখানে কাঠামোর ত্রুটি স্পষ্ট। উপরে সাব ফ্লোর ও ফ্লোর সিস্টেমের একটা বড় অংশ হটাৎ করেই ধসে পড়েছে। এমনটা সাধারণত হয় না, বা বলা ভালো যে কাঠামো তৈরি হচ্ছে তার স্থিতিশীলতা হারিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এর কারণ সম্ভবত ঢালাই করা আর.সি.সি স্ল্যাবের কংক্রিট শক্তি অর্জনের আগেই অতিরিক্ত ভার প্রয়োগ করা হয়েছে। যার ফলে সেখানে থাকা যন্ত্র সহ শ্রমিকদের সম্মিলিত ভার বহনের ক্ষমতা অতিক্রান্ত হয়ে যায় ও শুরুতে এক জায়গায় হলেও পরবর্তীতে সমস্তটা ভার বহনে অক্ষম হয়ে ধসে পরে।

এখানেই শেষ নয়, অস্থায়ী সাটারিং, স্টেজিং, অপর্যাপ্ত ব্রেসিং, প্রপস ও সেন্টারিংয়ের ব্যর্থতা থেকে দুর্বল সাপোর্ট ও স্টিল প্রপের ব্যাকলিংয়ের ফলে স্ল্যাবটি হয়তো হটাৎ করেই নিচে চলে গেছিল। এর ফলে বিম ও কলমের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। যেটা শেষপর্যন্ত গোটা কাঠামোটাকেই ক্রমশ ধসের দিয়ে নিয়ে যায়।

উদ্ধারকার্যের পর ঘটনাস্থলে যে সমস্ত স্টিল বিম ও কলাম দেখা যাচ্ছে তাতে বিকৃতি, ব্যাকলিং ও মোচড় দেখা যাচ্ছে। এটা অত্যাধিক লোড, ত্রুটিপূর্ণ নকশা, পার্শিয়াল রিস্টরেন্ট ও অপর্যাপ্ত সেকশনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ মনীষী-বিপ্লবীদের নামে হবে রাস্তা, কারা কিভাবে নেবেন সিদ্ধান্ত? জানালেন কার্তিক মহারাজ

ইমারত বিশেষজ্ঞ বিমান বান্ধোপাধ্যায়য়ের মত

ইমারত বিশেষজ্ঞ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এরম একটা বিল্ডিং, কংক্রিটের স্ল্যাব তৈরির জন্য পুরসভার অনুমোদন থাকা উচিত বিল্ডিং রুল অনুযায়ী। সবার আগে সেটা দেখতে হবে ঠিক ছিল কি না! কারণ অনেক জমিতেই নির্মাণকাজ করা যায় না, এটাও তেমন কোনো জমি নয়তো? পরবর্তীতে নকশা দেখা হলেই বেরিয়ে আসে ‘ভয়ংকরভাবে ভুল’ নকশা। তাছাড়া শুধুমাত্র নকশা অ্যাপ্রুভাল হলেই হয় না। সেটা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না দেখার জন্যও একজনকে লাগে। এক্ষেত্রে কেউ নির্মাণকাজের তদারকির জন্য নিযুক্ত ছিলেন কি? সেটাও বোঝা যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নারীদের দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করা হয়েছে। যাঁরা প্রাথমিকভাবে পুরসভার একাধিক অফিসারের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন এই দুর্ঘটনার জন্য। ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ যার মধ্যে বার বার উঠে আসছে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। শুক্রবারেই তাকে আলিপুর আদালতেই হাজির করা হয়েছিল। সেখানে আগামী ৪ঠা জুলাই অবধি কালীচরণকে পুলিশের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।