বাংলাহান্ট ডেস্ক: পুণের লোহাগড় দুর্গে কেতন আগরওয়ালকে খুনের (Ketan Murder Case) ঘটনা ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচিত চেতন চৌধুরী। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারী সংস্থার একটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘ জেরার সময় সিয়া নাকি স্বীকার করেছেন, বিয়ে ভেঙে দেওয়ার থেকে কেতনকে সরিয়ে দেওয়াই তাঁর কাছে সহজ পথ বলে মনে হয়েছিল। যদিও এই দাবি এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি, তবু তদন্তে উঠে আসা এই তথ্য গোটা মামলাকে নতুন মোড় দিয়েছে।
কেতন হত্যাকাণ্ডের (Ketan Murder Case) জেরায় বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি সিয়ার
শুক্রবার প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে সিয়াকে জেরা করেন তদন্তকারীরা। সূত্রের দাবি, সেই জেরায় তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের নভেম্বরে কেতনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে পরিবারকে মানসিক আঘাত দিতে হবে বলেই তাঁর আশঙ্কা ছিল। তাই বিয়ে বাতিল করার বদলে অন্য পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তিনি নাকি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। পুলিশ আরও দাবি করেছে, কেতনের সঙ্গে সম্পর্কে থাকার সময়ই সিয়ার আলাপ হয় চেতন চৌধুরীর সঙ্গে। একটি ক্রিকেট ম্যাচে প্রথম পরিচয়, তারপর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। গত বছরের একটি দিওয়ালি পার্টির পর তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: ১৭ টি অসুখের সঙ্গে লড়াই করেও বজায় জেদ! LLB-MBA-র পরে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হয়ে নজির রাকেশের
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে সিয়া ও চেতনের মধ্যে প্রায় দুই হাজার বার ফোনে কথা হয়েছে। এই বিপুল যোগাযোগের তথ্য তাঁদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে সিয়ার পরিবার এই সম্পর্কের বিষয়টি মানতে নারাজ। তাঁর বাবা-মায়ের দাবি, তাঁরা চেতনকে চিনতেন না এবং মেয়ের সঙ্গে তাঁর কোনও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানতেন না। অন্যদিকে, সিয়ার আইনজীবী চেতনকে কেবলমাত্র একজন ‘বন্ধু’ বলেই দাবি করেছেন। ফলে এই সম্পর্কের প্রকৃত গভীরতা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।
এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, সিয়ার উপর তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে চাপ তৈরি করছিলেন চেতন। এমনকি চেতন সিয়াকে হবু স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যও প্ররোচনা দিয়েছিলেন। যদিও এই অভিযোগেরও এখনও বিচারিক প্রমাণ বাকি রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর জেরার প্রথমদিকে সিয়া এবং চেতন দু’জনেই একে অপরের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে জেরার মুখে তাঁরা নিজেদের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। ঘটনার পরিকল্পনা, যোগাযোগ এবং হত্যার নেপথ্যের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে পুলিশ ডিজিটাল তথ্য, ফোন রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করছে।

আরও পড়ুন: রোহিত শর্মাকে দল থেকে বাদ দিক BCCI! হিটম্যানকে নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিলেন ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার
প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের মতো একটি আনন্দঘন মুহূর্ত যে এমন ভয়াবহ অপরাধের ঘটনায় রূপ নেবে, তা কেউ সিয়া কেতন দুজনের পরিবারই কখনও স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। এই ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সম্পর্ক, বিশ্বাস ও অপরাধের জটিল দিকগুলি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচার হবে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। তদন্তকারীদের আশা, আদালতে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে এই বহুল চর্চিত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে (Ketan Murder Case)।













