১৭ টি অসুখের সঙ্গে লড়াই করেও বজায় জেদ! LLB-MBA-র পরে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হয়ে নজির রাকেশের

Published on:

Published on:

Success Story of Rakesh Chandola will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: জীবন যতই কঠিন হোক, চলার পথে যত বড় বাধাই আসুক না কেন অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে সাফল্যের (Success Story) শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, সেই কথাই যেন নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন রাকেশ চান্দোলা। এক সময় ১৭টি গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। একটানা অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণা, মানসিক চাপ এবং একের পর এক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেন। তবুও তিনি স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি। বরং প্রতিটি বাধাকেই নতুন করে লড়াইয়ের শক্তিতে পরিণত করে তা জয় করেছেন। সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আজ তিনি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ), একাধিক উচ্চশিক্ষার ডিগ্রিধারী, গবেষক, এনএলপি কোচ এবং কোয়ান্টাম হিলার। তাঁর জীবনকাহিনি শুধুমাত্র অসুস্থতার বিরুদ্ধে জয় নয়, আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় এবং অদম্য মানসিক শক্তির এক বিরল উদাহরণ।

রাকেশ চন্দোলার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

রাকেশের শৈশব কাটে নানারকম অস্বাভাবিকতার মধ্যে দিয়ে। ছোট থেকেই একের পর এক গুরুতর অসুস্থতায় জর্জরিত ছিলেন তিনি। তাঁর শরীরে অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস-সহ মোট ১৭টি জটিল রোগ ধরা পড়ে। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছে তাঁকে। শারীরিক দুর্বলতা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে দ্রুত ওজন কমতে থাকে। স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা বা দৈনন্দিন যেকোনো কাজ করাই ভীষণ কঠিন হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি জীবনে আসে আর্থিক সংকট। একটি স্টার্টআপ ব্যবসা ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি। একই সময় তাঁর বাবার মৃত্যু তাঁকে আরও ভেঙে দেয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে দীর্ঘ সময় বিছানা থেকে ওঠাও তাঁর কাছে অসম্ভব ছিল। তবে এই কঠিন সময়ে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে পাশে দাঁড়ান তাঁর মা, যিনি সবসময় তাঁকে মানসিক সাহস জুগিয়ে গিয়েছেন (Success Story)।

আরও পড়ুন: সন্তানসংখ্যা নির্ধারণের উদ্দেশে বাংলায় UCC? সবটা পরিষ্কার করলেন শমীক ভট্টাচার্য

জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময়েই রাকেশ নিজের জীবনকে নতুন করে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। শুধুমাত্র ওষুধের উপর নির্ভর না করে তিনি নিজের মন, শরীর এবং আবেগকে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা শুরু করেন। দীর্ঘ আত্মবিশ্লেষণ, ধ্যান এবং মানসিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে তিনি নিজের ভেতরের শক্তিকে খুঁজে পান। যন্ত্রণাকে ভয় না পেয়ে, বরং সেটিকেই নিজেকে আরও উন্নত করার পথ হিসেবে গ্রহণ করেন। আর তাঁর এই মানসিক পরিবর্তনই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে গুছিয়ে তুলতে সক্ষম হন তিনি এবং সেই সময় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর সংকল্প নেন। সেই দৃঢ় মনোবলই তাঁকে অসুস্থতার অন্ধকার থেকে সাফল্যের আলোর পথে এগিয়ে দেয়।

শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও রাকেশ কখনও পড়াশোনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। এমন অনেক দিন কেটেছে, যখন তিনি বিছানায় শুয়েই বই পড়েছেন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন। চিকিৎসা, বিশ্রাম এবং পড়াশোনার মধ্যে অসাধারণ ভারসাম্য বজায় রেখে তিনি একের পর এক শিক্ষাগত সাফল্য অর্জন করেন। প্রথমে এলএলবি, তারপর এমকম, এমবিএ-সহ একাধিক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি সিএফএ, সিএমএ এবং সিএসের মতো পেশাগত শিক্ষাও অর্জন করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আইসিএআই-এর কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়ার স্বপ্নও পূরণ করেন। তাঁর এই সাফল্যের পিছনে ছিল অবিচল আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম এবং সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর অসাধারণ দক্ষতা।

Success Story of Rakesh Chandola will Amaze you.

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের জেরে ভারতে বাড়বে জ্বালানির দাম? কোথায় দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি?

বর্তমানে রাকেশ চান্দোলা শুধুমাত্র একজন সফল (Success Story) পেশাজীবী নন, তিনি হাজার হাজার মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস। একজন সার্টিফায়েড এনএলপি কোচ, কোয়ান্টাম হিলার এবং গবেষক হিসেবে তিনি মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার পথ দেখাচ্ছেন। টানা ২৪ ঘণ্টা গায়ত্রী মন্ত্র জপ করার কৃতিত্বের জন্য তাঁর নাম ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসেও নথিভুক্ত হয়েছে। এক সময় যিনি অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন, আজ তিনিই অন্যদের জীবনে আশার আলো জ্বালাচ্ছেন। রাকেশ চান্দোলার জীবনের এই সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, প্রতিকূল পরিস্থিতি কখনও মানুষের স্বপ্নকে থামাতে পারে না। ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং নিজের উপর অটুট বিশ্বাস থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করে তোলা যায়।