বাংলা হান্ট ডেস্ক : দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরের দ্বন্দ্ব এবার আদালতের দোরগোড়ায়। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ হওয়া এবং তহবিল ব্যবহারের অধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের জেরে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট শিবির। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অধিকার কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্নের আইনি মীমাংসা চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেছে কালীঘাট শিবির।
তৃণমূলের (Trinamool Congress) দলীয় তহবিল নিয়ে হাইকোর্টে মামলা
কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের হয়ে সিনিয়র আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি শুনানির আর্জি জানান। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপিত হলেও আদালত জানিয়ে দেয়, শুনানির আগে মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক পক্ষকে নোটিস পাঠানো বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর শুনানির দিন চূড়ান্ত করা হতে পারে। এই মামলায় রাজ্য সরকার, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে বিবাদীপক্ষ করা হয়েছে।
তৃণমূলের আইনজীবী দ্রুত শুনানির অনুরোধ জানালেও আদালত জানায়, প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের স্বার্থে সব পক্ষকে আগে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হবে। তাই নোটিস জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে মতভেদ প্রকাশ্যে আসে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল বিধায়ক আলাদা শিবির গড়ে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেন। ওই গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় অরূপ রায়কে। এরপর থেকেই সংগঠন এবং দলীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন আরও বাড়তে থাকে।
উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতিতে দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্কে লিখিতভাবে আবেদন করে দলীয় অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত রাখার দাবি জানান। পরে একই ইস্যুতে ঋতব্রতের শিবির পুলিশের কাছেও অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে তিনটি অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ৪৪০ কোটি টাকার লেনদেন আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সমস্ত আর্থিক নথি জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট শিবির।
পুলিশ সূত্রের দাবি, এআইটিসির মূল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা। এছাড়া ত্রিপুরা ও গোয়া ইউনিটের অ্যাকাউন্টে মিলিয়ে রয়েছে আরও প্রায় ১৮০ কোটি টাকা। নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অরূপ বিশ্বাসকে কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে দিলেও, ব্যাঙ্কে পাঠানো চিঠিতে তিনি নিজেকে কোষাধ্যক্ষ বলেই উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন : যুবকদের টার্গেট করে বাংলায় জেহাদি নেটওয়ার্ক! বড় পদক্ষেপ নিল এনআইএ-র
অরূপ বিশ্বাসের অভিযোগ, দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি একাধিক চেকে স্বাক্ষর করেছিলেন, কিন্তু পরে সেই চেকগুলি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বা কী পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে, তার কোনও হিসাব তাঁকে দেওয়া হয়নি। সেই অভিযোগ থেকেই দলীয় তহবিল নিয়ে বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হওয়া এই আইনি লড়াই এখন হাই কোর্টের বিচারাধীন। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে এই আর্থিক জটিলতার সমাধান কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।













