সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য বাধ্যতামূলক পরীক্ষা! ফেল করলেই হতে পারে বড় পদক্ষেপ

Published on:

Published on:

Compulsory test for civic volunteer
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের পুলিশ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলতে সিভিক ভলান্টিয়ারদের (Civic Volunteer) জন্য নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর পথে এগোচ্ছে প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে বাহিনীতে কর্মরত ভলান্টিয়ারদের দক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং দায়িত্ব পালনের মান একসঙ্গে যাচাই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য কর্মীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি বাহিনীর সামগ্রিক মানোন্নয়নও সম্ভব হবে।

সিভিক ভলান্টিয়ারদের (Civic Volunteer) বাছাইয়ের পরীক্ষা

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিভিক ভলান্টিয়ারদের কর্মক্ষমতার ভিত্তিতে বাছাইয়ের কথা ঘোষণা করার পর সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক জেলায় মূল্যায়ন সংক্রান্ত প্রস্তুতি এগোচ্ছে এবং ধাপে ধাপে সমস্ত জেলাতেই এই প্রক্রিয়া চালু করা হবে। নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শুধু শারীরিক সক্ষমতা দেখা হবে না। আইন সম্পর্কে মৌলিক ধারণা, কম্পিউটার পরিচালনার দক্ষতা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যবহার এবং দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততাও পরীক্ষা করা হবে।

সব মিলিয়ে ৫০ নম্বরের মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারলে চাকরি বহাল থাকার সম্ভাবনা থাকবে।‌পুলিশের একটি অংশের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক সুপারিশের ভিত্তিতে বহু সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ হয়েছিল। সেই সময় নিয়োগের আগে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শারীরিক সক্ষমতার যথাযথ যাচাই হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছিল।

বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য, সেই সমস্ত অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধ করা এবং বাহিনীতে দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত কর্মীদেরই ধরে রাখা।
স্বরাষ্ট্র দফতরের নির্দেশ পাওয়ার পর বিভিন্ন জেলা পুলিশ প্রশাসন মূল্যায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে। পরীক্ষার নম্বর বণ্টন এবং মূল্যায়নের কাঠামো প্রথম তৈরি করেছে কোচবিহার জেলা। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সেই পদ্ধতিকেই অনুসরণ করে অন্যান্য জেলাতেও একই ধরনের মূল্যায়ন ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

শারীরিক পরীক্ষার আওতায় থাকবে দৌড়, ওঠবোস, সিট-আপ, উচ্চতা, ওজন এবং বুকের মাপ পরীক্ষা। প্রয়োজন অনুযায়ী এক থেকে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়ানোর সক্ষমতাও যাচাই করা হতে পারে। এই অংশের জন্য মোট ২৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি পরীক্ষার আলাদা নম্বর থাকবে। অবশিষ্ট ২৫ নম্বর দেওয়া হবে শিক্ষাগত ও পেশাগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা, সাধারণ জ্ঞান, কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এই পর্যায়ে বিচার করা হবে। দুই বিভাগের প্রাপ্ত নম্বর একত্র করে চূড়ান্ত কাট-অফ নির্ধারণ করা হবে এবং সেই অনুযায়ী মেধাতালিকা প্রস্তুত হবে।

Compulsory test for civic volunteer
আরও পড়ুন :মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়াদের বিনামূল্যে টিউশন! এমপি শিক্ষা মিশনে আবেদন থেকে যোগ্যতা সব জানুন

যাঁদের ক্ষেত্রে শারীরিক সক্ষমতা বা পেশাগত যোগ্যতার ঘাটতি ধরা পড়বে, তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিভিক ভলান্টিয়ার বাহিনীতে দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে প্রশাসন। ভবিষ্যতে আরও প্রশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল বাহিনী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।