বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! ৪০ টি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক মকুব, লাভবান হবে একাধিক সেক্টর

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা এবং বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেনের ওপর এর প্রভাবের আবহে এবার কেন্দ্রীয় সরকার শিল্প এবং গ্রাহকদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি প্রদান করেছে। ইতিমধ্যেই সরকার ৪০ টি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানির ওপর জিরো কাস্টম ডিউটি (Customs Duty) অর্থাৎ শূন্য শুল্কের মেয়াদ ১৫ দিন বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হল অভ্যন্তরীণ বাজারে কাঁচামালের সরবরাহ বজায় রাখা এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা।

শুল্ক ছাড়ের (Customs Duty) মেয়াদ কেন বাড়ানো হল?

অর্থ মন্ত্রকের মতে, সরকার গত এপ্রিল মাসে এই পণ্যগুলির ওপর শুল্ক পুরোপুরি মকুব করেছিল। সেইসময়ে ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলিকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে LPG উৎপাদনে আরও বেশি মনোযোগ দিতে বলা হয়েছিল। এছাড়াও, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেনকে ব্যাহত করেছিল। এখন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। কিন্তু শিল্প সেক্টরগুলি যাতে কোনও সমস্যার সম্মুখীন না হয়, তা নিশ্চিত করতে এই ছাড়ের মেয়াদ ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

Customs duty exemption for 40 petrochemical products.

কোন কোন পণ্যে রয়েছে শুল্ক ছাড়: মূলত, ভিনাইল ক্লোরাইড মনোমার থেকে শুরু করে মিথানল, অ্যানহাইড্রাস অ্যামোনিয়া, টলুইন, স্টাইরিন বিউটাডিন, স্টাইরিন, ডাইক্লোরোমিথেন, পলিবিউটাডিন এবং অসম্পৃক্ত পলিয়েস্টার রেজিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যালের ক্ষেত্রে শুল্কে ছাড় মিটবে। এই পণ্যগুলি একাধিক শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আরও পড়ুন: যাত্রীদের জন্য সুখবর! আরও সহজে মিলবে বন্দে ভারতের টিকিট, জেনে নিন ১৫ মিনিটের নতুন নিয়ম

এই সেক্টরগুলি হবে লাভবান: জানিয়ে রাখি যে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্যাকেজিং থেকে শুরু করে প্লাস্টিক, বস্ত্র, ঔষধশিল্প, রাসায়নিক, গাড়ির যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য উৎপাদন সেক্টরগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। মূলত, কাঁচামালের দাম কমলে এই শিল্পগুলির উৎপাদন খরচ কমে যাবে। যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য লাভজনক হতে পারে।

আরও পড়ুন: সন্তানের মৃত্যুশোক সামলে মরক্কোর বিরুদ্ধে করেন গোল! দল বিদায় নিতেই বিশ্বকাপের স্বপ্ন অধরা গাকপোর

সাপ্লাই চেন বজায় রাখা সরকারের অগ্রাধিকার: উল্লেখ্য যে, অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করা এবং অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। মূলত, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার কারণে সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পথ ব্যাহত হয়েছে। যা অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এমতাবস্থায়, শুল্ক ছাড় বাড়ানোর সিদ্ধান্তটিকে শিল্পের জন্য একটি স্বস্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদনের ওপর চাপ কমবে এবং দেশে অত্যাবশ্যকীয় শিল্পজাত পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে সাহায্য হবে।