বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মধ্য কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আগামী দুই মাসের জন্য বড় জমায়েত ও মিছিলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। ২ জুলাই থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত ওই এলাকায় BNSS-এর ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকবে। পুলিশের দাবি, সম্ভাব্য অশান্তি ও হিংসাত্মক বিক্ষোভের আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই নির্দেশিকাকে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা বলে অভিযোগ তুলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল শিবির, যারা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
মধ্য কলকাতায় BNSS-এর ১৬৩ ধারা জারি কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police)
২১ জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে কর্মসূচি করার আবেদন আগেই খারিজ করেছিল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। মমতা-পন্থী এবং ঋতব্রত-পন্থী, উভয় তৃণমূল শিবিরের আবেদনই অনুমোদন পায়নি। এর মধ্যেই নতুন নির্দেশিকা জারি করে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছেন, ২ জুলাই থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত মধ্য কলকাতার নির্দিষ্ট এলাকায় BNSS-এর ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকবে।
পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী, এই সময়ে পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির জমায়েত নিষিদ্ধ থাকবে। একইসঙ্গে লাঠি বা অন্য কোনও বিপজ্জনক অস্ত্র নিয়ে জমায়েত করার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
নির্দেশিকায় কলকাতা পুলিশের দাবি, নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত তারা জানতে পেরেছে যে ওই এলাকায় বিক্ষোভকে ঘিরে অশান্তি বা হিংসার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি তৃণমূলের
পুলিশের (Kolkata Police) এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মধ্য কলকাতাজুড়ে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের পথ আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে তাঁদের দল আইনি এবং রাজনৈতিক—দুই ক্ষেত্রেই লড়াই করবে। আদালতে গিয়ে প্রয়োজনীয় মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি। বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রেখেই তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়বেন বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল সাংসদ।

আরও পড়ুনঃ গাড়ি দেখেই চেনা যাবে পদমর্যাদা! আমলাদের জন্য বড় নিয়ম আনল নবান্ন
অন্যদিকে, কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও পুলিশের (Kolkata Police) এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় এসে কঠোর অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে দেশের বিচারব্যবস্থার উপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত আইনের পথেই এই বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে।













