‘এটা পাকিস্তানের ভূখণ্ড নয়’, শরিফের ঘুম উড়িয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করার হুঁশিয়ারি PoK-র বাসিন্দাদের

Published on:

Published on:

Public outrage against the Pakistan govt is reaching a boiling point in Pak-occupied Kashmir.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তান (Pakistan) সরকারের বিরুদ্ধে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (Pakistan-occupied Kashmir) জনরোষ ক্রমশ চরম আকার নিচ্ছে। লাগাতার অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক অবহেলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখনও অব্যাহত রয়েছে। টানা ২২ দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভে (Protest) মঙ্গলবার রাওয়ালাকোটের ইদগাহ ময়দানে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে নিজেদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। বিক্ষোভকারীদের মুখে শোনা যায় পাকিস্তানবিরোধী নানা স্লোগান। বিক্ষোভকারীরা দাবি তোলেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখানো উচিত নয়। আন্দোলনের এই তীব্রতা ইসলামাবাদের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তান (Pakistan) সরকারের বিরুদ্ধে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জনরোষ ক্রমশ চরম আকার নিচ্ছে:

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আন্দোলনের একাধিক নেতা পাকিস্তানের (Pakistan) নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং মৌলিক নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। পাশাপাশি প্রশাসনের দমনমূলক নীতির কারণেও মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে। বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক করে জানান, যদি সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ এবং দমন-পীড়ন বন্ধ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের দাবিও আরও জোরালোভাবে সামনে আসতে পারে। যদিও পাকিস্তান সরকার শুরু থেকেই এই আন্দোলনের পিছনে ভারতের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে, তবে আন্দোলনকারীরা সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন: নিয়োগ দুর্নীতির নেপথ্যে কে? অভিষেকের নাম করে বিস্ফোরক অভিযোগ তাপস মণ্ডলের

পিওকে-তে চলা এই আন্দোলনের পেছনে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবার সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশাসনিক অবহেলা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাবের অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৫ জুন থেকে ওই অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, ইন্টারনেট বন্ধ করে বা কড়াকড়ি আরোপ করে মানুষের ক্ষোভ দমন করা সম্ভব নয়। বরং এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মানবাধিকার কর্মী সরদার আমান খান-সহ একাধিক স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলন দমাতে প্রশাসন খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহেও দুই সপ্তাহের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিকভাবে নিজেদের দাবি জানাতে চাইলেও প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। যদিও পাকিস্তান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।

Public outrage against the Pakistan govt is reaching a boiling point in Pak-occupied Kashmir.

আরও পড়ুন: ২১ জুলাইয়ের আগে বড় সিদ্ধান্ত! মধ্য কলকাতায় ৩০ অগস্ট পর্যন্ত জারি ১৬৩ ধারা

পাক (Pakistan) অধিকৃত কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু স্থানীয় রাজনীতিতেই নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক পরিসরেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একদিকে ইসলামাবাদ আন্দোলনের পেছনে বিদেশি প্রভাবের অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিকে সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ফল বলেই তুলে ধরছেন। ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষ, প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং অর্থনৈতিক সংকট মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও অস্থির। আগামী দিনে পাকিস্তান সরকার কীভাবে এই আন্দোলনের মোকাবিলা করে এবং মানুষের অভিযোগের সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করবে পিওকে-র ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি।