রেশন কার্ডে এবার বড় ছাঁটাই! কারা হারাতে পারেন সরকারি সুবিধা?

Published on:

Published on:

Who could lose ration cards benefits?
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিতে যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত উপভোক্তারাই সুবিধা পান, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনিক কড়াকড়ি আরও বাড়াতে চলেছে রাজ্য সরকার। এদিন রেশন ব্যবস্থা (Ration) নিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিশেষ করে রেশন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়ো উপভোক্তার অভিযোগ সামনে আসায় এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। সরকারি ভর্তুকির অপব্যবহার রুখতে জেলা প্রশাসন থেকে খাদ্য দফতর—সব স্তরেই শুরু হচ্ছে নজরদারি।

রেশন (Ration) ব্যবস্থা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রেশন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “রেশন কার্ড ক্লিন করতে হবে। ভুয়ো রেশন কার্ড বাদ দিতেই হবে।” এরপর তিনি আরও জানান, “যাঁরা রেশন পাওয়ার যোগ্য নয় তাঁরা কোনও ভাবেই আর পরিষেবা পাবেন না। এটা আপনাদের নিশ্চিত করতেই হবে।” নবান্ন সূত্রের খবর, এই নির্দেশ কার্যকর করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের হিসেব অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮ কোটি ৬৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ রেশন ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন। খাদ্য ও সরবরাহ দফতর AAY, PHH, SPHH এবং RKSY-সহ একাধিক শ্রেণির কার্ডের মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার কাছে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেয়। এত বড় ব্যবস্থার মধ্যে অযোগ্য ব্যক্তিরা যাতে কোনওভাবেই সরকারি সুবিধা নিতে না পারেন, সেই বিষয়টিকেই এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের একাংশের দাবি, গত কয়েক বছরে বহু রেশন কার্ড নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ জমা পড়েছে। কোথাও মৃত ব্যক্তির নামে কার্ড চালু রয়েছে, কোথাও আবার নিয়মবহির্ভূতভাবে নতুন কার্ড তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই কারণেই এবার তথ্য যাচাইয়ের কাজ আরও বিস্তৃত আকারে শুরু করতে চাইছে সরকার। খাদ্য দফতর ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়া চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ নজরে রাখা হচ্ছে সেই সব রেশন কার্ড, যেগুলির জন্য প্রথম আবেদন করা হয়েছে ১৮ বছর বয়সের পরে।

উল্লেখ্য,‌ সাধারণ পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের ছোট বয়সেই রেশন কার্ডের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর নতুন আবেদনগুলির নথি আলাদা করে পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজন হলে আবেদনকারীর বাসভবনে গিয়ে তথ্য যাচাই‌ করা হবে। এই বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া আগেই প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, “রাজ্যে এখন আইনের শাসন চলছে। অযোগ্যরা কোনও সুবিধা পাবে না। তাই এই নির্দেশ। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।” প্রথম পর্যায়ে নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতায় এই বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

Who could lose ration cards benefits?

আরও পড়ুন : আবেদন করলেও পাবেন না টাকা, এই ভুল করলে বাতিল হবেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম

শুধু রেশন কার্ড নয়, মুখ্যমন্ত্রী এদিন সমস্ত সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তাদের তথ্যও নিয়মিত খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। তাঁর মতে, যাঁরা সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাঁদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া গেলে অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। সেই অর্থ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিতে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে। সরকারের এই নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে প্রশাসনের একাংশ।