বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি মুনাফার আশায় অনেকেই এখন উচ্চ-ঝুঁকির বিভিন্ন বিকল্প বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু সবসময় সেই সিদ্ধান্ত লাভজনক হয় না। যারা নিরাপদে টাকা বাড়াতে চান, তাদের কাছে পোস্ট অফিসের এই প্রকল্প (Post Office Scheme) এখনও অন্যতম ভরসার জায়গা। এমনই একটি প্রকল্প হল পোস্ট অফিসের ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (NSC)। এই প্রকল্পের উপর আস্থা রেখেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তাঁর সাম্প্রতিক সম্পত্তির হিসাবেও এই বিনিয়োগের উল্লেখ রয়েছে।
পোস্ট অফিসের ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট স্কিমের (Post Office Scheme) সুবিধা
যাঁরা শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডের অনিশ্চয়তা এড়িয়ে চলতে চান, তাঁদের জন্য ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট একটি নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের মাধ্যম। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিনিয়োগ ধরে রাখলে সুদের সঙ্গে নিশ্চিত ম্যাচুরিটি ভ্যালু পাওয়া যায়। তবে এই সবচেয়ে অবাক করা বিষয় বহু সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন।
ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেটে শেয়ার বাজারের মতো দামের ওঠানামা বা বাজারভিত্তিক ঝুঁকির কোনও প্রভাব নেই। একই সঙ্গে নির্ধারিত সুদের হারে পাঁচ বছরের শেষে আকর্ষণীয় রিটার্ন পাওয়া যায়। তাই দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য এটি বুদ্ধিমান ঠিকানা।
মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়েই এই স্কিমের বিনিয়োগ সম্ভব। বর্তমানে ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেটে ৭.৭ শতাংশ বার্ষিক সুদ দেওয়া হচ্ছে।
কোনও ব্যক্তি এই প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পরে তিনি মোট ৭,২৪,৫১৭ টাকা পাবেন। অর্থাৎ শুধুমাত্র সুদ বাবদ আয় হবে ২,২৪,৫১৭ টাকা। এই প্রকল্পের পাঁচ বছর সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে জমা অর্থ তোলা যায় না।

আরও পড়ুন : কোন কোন চিকিৎসায় আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাওয়া যায়? কোন কোন ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না জানুন
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশিত সম্পত্তির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে পোস্ট অফিসের ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেটে তাঁর মোট বিনিয়োগ ৯.১২ লক্ষ টাকা। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় এই প্রকল্পে তাঁর বিনিয়োগ ছিল ৭.৬১ লক্ষ টাকা।
ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট এখনও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্প। ঝুঁকি না নিয়ে সঞ্চয় বাড়াতে চাইলে এই স্কিম অনেকের জন্যই একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।













