হার মানলেন নাকি বদলাল কৌশল? শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নতুন বার্তা মমতার

Published on:

Published on:

Mamata Banerjee's new message congratulating Suvendu Adhikari
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : দুই মাস আগেও নির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে ছিল তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত। ভোটের রায় মানতে অস্বীকার করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার একটি ফেসবুক লাইভে মমতার বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। এদিন ফেসবুক লাইভে তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানান এবং রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে ইতিবাচক কাজ হলে পাশে থাকার বার্তাও দেন।

মমতার (Mamata Banerjee) সুর বদল

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয় অস্থিরতা। একের পর এক নেতা-নেত্রীর দলবদল, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে জোর চর্চা চলতে থাকে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

উল্লেখ্য,‌ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টা পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি এই ফলাফল মেনে নিচ্ছেন না। তাঁর দাবি ছিল, ভোটে কারচুপি হয়েছে। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে তিনি রাজভবনে যাননি। একই সঙ্গে নতুন সরকার ও শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বকেও তিনি তখন কার্যত স্বীকৃতি দেননি।

শনিবারের ফেসবুক লাইভে অবশ্য তাঁর বক্তব্যে ভিন্ন সুর ধরা পড়ে। শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আপনিও তৃণমূল করেছেন বহু বছর। আগে কংগ্রেসও করেছেন। তবে আপনিও হেরেছেন। আপনার জন্য আমি প্রচারে গিয়েছিলাম। ওটা যদিও আমার দায়িত্ব ছিল। আপনি তৃণমূল সরকারের একাধিক দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন, ৬ জেলার দায়িত্বে ছিলেন। হলদিয়া ও দিঘা উন্নয়ন পর্ষদ আপনাদের হাতেই ছিল।”

Mamata Banerjee's new message congratulating Suvendu Adhikari

আরও পড়ুন : এই সরকারি স্কিমেই টাকা রাখেন প্রধানমন্ত্রী মোদি! কত রিটার্ন মিলছে জানেন?

এরপর দলত্যাগী নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “যারা আপনার সঙ্গে গেল তাঁরা সাধু হলে গেল। যারা গেল না, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই, আরও কতকিছু। মনে রাখবেন, সব ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া রয়েছে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক সৌজন্য হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি বিরোধী রাজনীতির নতুন কৌশলের ইঙ্গিত। তবে এই বক্তব্যের পর রাজ্যের রাজনীতিতে বিতর্ক যে আরও তীব্র হবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মধ্যে কোনও সংশয় নেই।