বাড়িতে সঞ্চিত সোনা করে দেবে মালামাল! কীভাবে মিলবে কেন্দ্রের গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমের সুবিধা?

Published on:

Published on:

Know detailed information about Gold Monetization Scheme.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: আমাদের দেশে সোনা কেনা কেবল একটি ঐতিহ্য এবং পারিবারিক সুরক্ষার প্রতীক নয়। বরং, এটি একটি বিনিয়োগের মাধ্যমও (Gold Monetization Scheme) বটে। এই হলুদ ধাতুকে ভারতে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। আর সেই কারণেই সোনার প্রতিটি টুকরোর সঙ্গে এক গভীর মানসিক সংযোগ জড়িয়ে থাকে। এদিকে, চুরির ভয়ে অনেকেই ব্যাঙ্কের লকারে সোনা রাখেন। যেখানে তাঁদের লকার ভাড়া দিতে হয়। তবে, এখন লকার ফি না দিয়েই এই মূল্যবান সোনাকে সুরক্ষিত করার এবং এটিকে আয়ের উৎসে পরিণত করার একটি সুযোগ রয়েছে। মূলত, কেন্দ্রীয় সরকার গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমের মাধ্যমে এই সুযোগ প্রদান করছে। বর্তমান প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করা হল।

গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম (Gold Monetization Scheme) কী:

জানিয়ে রাখি যে, গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম সোনা বিক্রি না করেই তার ওপর সুদ অর্জনের সুযোগ দেয়। এই স্কিমের অধীনে, আপনি নিরাপদে আপনার সোনা ব্যাঙ্কে জমা রাখতে পারেন। ব্যাঙ্ক এই সোনার মূল্যের ওপর ভিত্তি করে আপনাকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সুদ প্রদান করবে। এই স্কিমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, ম্যাচুরিটিতে  আপনি আপনার সোনা ফেরত নিতে পারেন অথবা বর্তমান বাজার মূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ গ্রহণ করতে পারেন। এই স্কিমটি মূলত ২০১৫ সালে চালু করা হয়েছিল। বিগত ১১ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় পরিবারগুলি থেকে কেবল ৩৯ টন সোনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ধীর গতিকে ত্বরান্বিত করতে এবং এই স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে, সরকার আসন্ন উৎসবের মরসুমের ঠিক আগে, ২০২৬ সালের অগাস্ট মাসে এর একটি নতুন সংস্করণ চালু করছে। এবার এই স্কিমের প্রচারাভিযানে স্থানীয় গহনা ব্যবসায়ীদেরও যুক্ত করা হচ্ছে।

Know detailed information about Gold Monetisation Scheme.

গহনা ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আস্থা অর্জন: গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমকে আরও বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সরকার এখন স্থানীয় এবং বিশ্বস্ত গহনা ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করছে। নতুন নিয়ম অনুসারে, সোনা জমা দেওয়ার জন্য আপনাকে আর দূরে যেতে হবে না। বরং, আপনার নিকটবর্তী রেজিস্টার্ড জুয়েলার্স তথা গহনা ব্যবসায়ীরা কালেকশন সেন্টার হিসাবে কাজ করবেন এবং আপনার সোনার বিশুদ্ধতা আপনার সামনেই যাচাই করা হবে। এই কাজের জন্য গহনাশিল্পীরা একটি সার্ভিস/হ্যান্ডলিং ফি পাবেন এবং রিফাইনিংয়ের জন্য তাঁদেরকে অপেক্ষাকৃত কম দামে কাঁচামালও সরবরাহ করা হবে।

আরও পড়ুন: ১৯,০০০ কোটির ক্ষতি সত্ত্বেও ভারতের সবথেকে মূল্যবান সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ! প্রথম দশে রয়েছে কারা?

এই ব্যবস্থাটি কীভাবে কাজ করবে: আপনি ন্যূনতম ১০ গ্রাম সোনা জমা দিয়ে এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। যার কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই। বর্তমানে, এটি ১ থেকে ৩ বছর মেয়াদী শর্ট-টার্ম ব্যাঙ্ক ডিপোজিটের একটি চমৎকার বিকল্প হিসাবে বিবেচিত হবে। এতে, আপনার জমা করা সোনা রিফাইন করে মানসম্মত সোনার বারে রূপান্তরিত করা হয় এবং আপনার গোল্ড অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়।  যার ওপর আপনি একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ পেতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন: ফিফা বিশ্বকাপে জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের লড়াই! মেসি-এমবাপের মধ্যে কড়া টক্কর

আপনার সোনা দেশের আয়ের উৎস হয়ে উঠবে: গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম অনুসারে, যখন আপনি এই সোনা ব্যাঙ্কে জমা রাখেন, তখন তা সরাসরি মূলধারার অর্থনীতির অংশ হয়ে যায়। এর ফলে বিদেশ থেকে সোনা আমদানির প্রয়োজনীয়তাও কমবে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারও বাঁচবে। যার ফলে রুপি আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশ দ্রুত আত্মনির্ভরশীলতার দিকে এগিয়ে যাবে।