পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডেও যুক্ত ছিল ২৬/১১-র মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! NIA-র চার্জশিটে লস্কর প্রধানের নাম

Updated on:

Updated on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পহেলগাঁওয়ের (Pahalgam Attack) ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সামনে আনল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। তদন্ত চলাকালীন পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লশকর-ই-তইবার (LeT) যোগসূত্রের ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। এবার সেই সন্দেহকে আরও জোরালো করে এনআইএ তাদের অতিরিক্ত চার্জশিটে আনুষ্ঠানিকভাবে লশকর প্রধান হাফিজ সইদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলেও পরিচিত হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে এবার পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এনআইএ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ দমন আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাসমূলক ষড়যন্ত্র এবং জঙ্গি কার্যকলাপে মদত দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার এই পদক্ষেপকে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।

পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডেও (Pahalgam Attack) যুক্ত ছিল ২৬/১১-র মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ!

উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছিল। সেই হামলার পরপরই লশকর-ই-তইবার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ) হামলার দায় স্বীকার করেছিল। তবে আন্তর্জাতিক চাপ ও তদন্তের অগ্রগতির মধ্যে পরে তারা নিজেদের অবস্থান বদলে দাবি করে, ওই হামলার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। যদিও এনআইএ-র তদন্তে ধাপে ধাপে যে তথ্যপ্রমাণ সামনে এসেছে, তা থেকে তদন্তকারীদের দাবি, হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। অতিরিক্ত চার্জশিটে সেই আন্তর্জাতিক যোগসূত্র আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: শত্রুদের ঘুম উড়িয়ে আরও শক্তি বাড়ছে ভারতের! নৌবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে নতুন রণতরী INS মহেন্দ্রগিরি

তদন্তে আগেই উঠে এসেছিল পাকিস্তানি জঙ্গি সইফুল্লা ওরফে সাজিদ জাট ওরফে ‘ল্যাংড়া’-র নাম। এনআইএ-র দাবি, তিনি টিআরএফ-এর অন্যতম শীর্ষ অপারেশনাল কমান্ডার এবং পাকিস্তানের লাহৌর থেকে এই হামলার পরিকল্পনা পরিচালনা করেছিলেন। পূর্বে দাখিল করা চার্জশিটে তাঁকেই হামলার মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তদন্তে আরও জানা যায়, হামলার আগে গত বছরের ১৫ ও ১৬ এপ্রিল তিন জঙ্গি—ফয়জল জাট ওরফে সুলেমান, হাবিব তাহির ওরফে ছোটু এবং হামজা আফগানি—পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় গিয়ে বিস্তারিত রেকি চালায়। এনআইএ-র দাবি, সইফুল্লার নির্দেশেই তারা সম্ভাব্য হামলার স্থান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পালানোর পথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে হামলার ছক চূড়ান্ত করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে হামলায় ব্যবহৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নিয়ে। এনআইএ-র দাবি, হামলার সময় জঙ্গিদের হাতে থাকা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরার উৎসও তারা খুঁজে পেয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ক্যামেরাটি প্রথমে আমেরিকা থেকে চিনে পৌঁছায়। সেখান থেকে সেটি পাকিস্তানের সামরিক চ্যানেলের মাধ্যমে জঙ্গিদের হাতে পৌঁছেছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। যদিও এই আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পর্কে তদন্ত এখনও চলমান, তবুও এনআইএ মনে করছে, এই তথ্য হামলার নেপথ্যে থাকা সংগঠিত জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত লজিস্টিক সহায়তার ইঙ্গিত দেয়। প্রযুক্তিগত তথ্য, ডিজিটাল প্রমাণ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তদন্তকারী সংস্থা।

Hafiz Saeed, the mastermind of 26/11, was also involved in the Pahalgam attack!

আরও পড়ুন: ২০৩৬-এর মধ্যে ভারতের ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ হবেন মধ্যবিত্তরাই! পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জানালেন নির্মলা সীতারামন

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চার্জশিটে হাফিজ সইদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া শুধু তদন্তের অগ্রগতিকেই নির্দেশ করে না, বরং আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানকেও আরও জোরালো করে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ এনআইএ-র তদন্ত ও চার্জশিটের ভিত্তিতে আনা হয়েছে এবং মামলার চূড়ান্ত রায় এখনও আদালতের বিচারাধীন। আগামী দিনে এই মামলায় আরও নতুন তথ্য ও প্রমাণ সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে সীমান্তপারের জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা স্তরে ভারতের পদক্ষেপও আরও জোরদার হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা (Pahalgam Attack)।