২০৩৬-এর মধ্যে ভারতের ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ হবেন মধ্যবিত্তরাই! পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জানালেন নির্মলা সীতারামন

Published on:

Published on:

Nirmala Sitharaman says middle class will be India's 'growth engine' by 2036.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। ফ্রান্সে (France) আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক দশকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হবে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভোক্তারা। তাঁর দাবি, ২০৩৬ সালের মধ্যে দেশের মোট ভোক্তা ব্যয়ের প্রায় ৯৩ শতাংশই এই শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে আসবে। অর্থমন্ত্রীর মতে, ভারতের অর্থনীতি (Indian Economy)এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে শুধু উৎপাদন বা বিনিয়োগ নয়, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং ভোগব্যয়ই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠবে। তাই মধ্যবিত্তের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

২০৩৬-এর মধ্যে ভারতের ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ হবেন মধ্যবিত্তরাই, জানালেন নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman):

নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) আরও জানান, ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আর কেবল মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু বা চেন্নাইয়ের মতো কয়েকটি মহানগরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী দিনে দেশের প্রায় ৫০০টি শহর নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। তাঁর মতে, টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরগুলিতে দ্রুত হারে মধ্যবিত্তের বিস্তার ঘটছে। সেই সঙ্গে সেখানে শিল্প, পরিষেবা, ডিজিটাল ব্যবসা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীরে ধীরে বড় শহর থেকে ছোট ও মাঝারি শহরগুলিতে ছড়িয়ে পড়বে। এই পরিবর্তন ভারতের অর্থনীতিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: শ্যামাপ্রসাদের স্কুলে মুখ্যমন্ত্রীর বড় বার্তা, মিত্র ইনস্টিটিউশনের হাল ফেরাতে ২৫ লক্ষ টাকা

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩১ শতাংশ মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। ১৯৯৫ সাল থেকে এই শ্রেণির জনসংখ্যা বছরে গড়ে প্রায় ৬.৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওইসিডি-র তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৩০ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে মধ্যবিত্ত জনসংখ্যার নিরিখে ভারত চিনকেও অতিক্রম করতে পারে। তাঁর বক্তব্য, এই পরিবর্তন শুধু জনসংখ্যার পরিসংখ্যান নয়, বরং দেশের বাজার, বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং পরিষেবা খাতের উপরও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্তের চাহিদা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

সরকার কীভাবে এই মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রসারে কাজ করছে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন নির্মলা সীতারামন। তিনি বলেন, জন ধন যোজনার মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষকে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে প্রায় ২৪.৮ কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের বাইরে এসেছেন। পাশাপাশি জামানতবিহীন ঋণ, ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার, ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য আর্থিক সহায়তা, আয়কর ছাড়ের সীমা বৃদ্ধি, বিভিন্ন পণ্যে জিএসটি কমানো এবং স্বাস্থ্যবিমা ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধের মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের হাতে বেশি অর্থ রেখে তাদের আর্থিক অবস্থাকে শক্তিশালী করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

Nirmala Sitharaman says middle class will be India's 'growth engine' by 2036.

আরও পড়ুন: ভারতের মিসাইল পরীক্ষায় বাড়ছে চিন্তা? নজরদারি চালাতে মায়ানমার সীমান্তে রাডার বসাল চিন

এছাড়াও যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধির উপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী (Nirmala Sitharaman)। স্টেম শিক্ষা, অডিও-ভিজ্যুয়াল, গ্রাফিক্স ও গেমিং-সহ আধুনিক শিল্পক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, দক্ষ জনশক্তি, শক্তিশালী মধ্যবিত্ত এবং ক্রমবর্ধমান ভোক্তা বাজার—এই তিনটি স্তম্ভই আগামী দিনের ভারতের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। নির্মলা সীতারামন বলেন, মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা যত বাড়বে, ততই ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। সেই কারণেই আগামী বছরগুলিতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে মধ্যবিত্ত শ্রেণিই আত্মপ্রকাশ করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।