বাংলা হান্ট ডেস্ক : ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীকে ঘিরে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে বাড়ছে চর্চা। এই আবহেই ভবানীপুরের ঐতিহাসিক মিত্র ইনস্টিটিউশনে পৌঁছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে আর্থিক সাহায্য সহ একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীতে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
এদিনের অনুষ্ঠানে মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভবানীপুরের এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়কে নতুনভাবে গড়ে তোলাই এখন তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মিত্র ইনস্টিটিউশনে উপস্থিত হয়ে ঘোষণা করেন, “আমি অত্যন্ত গর্বিত। এই বিদ্যালয়ের পরম্পরা ধরে রাখার দায়িত্ব আমার উপরে অর্জিত হয়েছে। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি আমি পুর্নগঠন, পুনরায় সংস্কার করব। ১২৫ তম বর্ষে আমার কাজ এই বিদ্যালয়কে কিভাবে সাজিয়ে তোলা যায়। বিগত দিনের যাঁরা সংসদ সদস্য, বিধায়ক ছিলেন। তাঁরা কিছুই করেননি। আমি বিদ্যালয় শিক্ষা মন্ত্রীকে বলেছি যে যাতে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা দেব এই আর্থিক বর্ষে।” এদিন উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দীপক বর্মন এবং ইন্দ্রনীল খাঁ।
শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, নির্দিষ্ট আর্থিক বরাদ্দের কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “স্কুলটার অবস্থা ভাল নয়। কেউ এর আগে নজর দেয়নি। আমি এলাকার বিধায়ক আমাকে তো ভাবতেই হবে। সামান্য ২৫ লক্ষ টাকা দেব বলেছি।” পাশাপাশি জানান, হুগলির জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে একটি গ্রন্থাগার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করা জানান, ” পশ্চিমবঙ্গের পাঠ্য পুস্তকে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির যে ভূমিকা ছিল তা আগামী শিক্ষা বর্ষে থাকবে।”পাঠ্যক্রমে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই সিলেবাসে শ্যামাপ্রসাদকে জায়গা দেওয়া উচিত। সিঙ্গুরে টাটাকে তাড়ানো যদি সিলেবাসের জায়গা দেওয়া হয়, শিল্প বিরোধী টাটা তাড়ানোকে বের করে সেখানে শ্যামাপ্রসাদকে জায়গা দেওয়া উচিত। আমি সুপারিশ করতে পারি, আবেদন করেছি। বাকিটা শিক্ষামন্ত্রী ভাববেন।” এদিকে জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিজেপির মুরলীধর সেন লেনের রাজ্য দফতরেও ছিল উৎসবের আবহ। কর্মী-সমর্থকেরা আতশবাজি ফাটিয়ে এবং পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র হাতে নিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করেন।

আরও পড়ুন :আসছে ‘শ্যামা’! এবার বড়পর্দায় ফুটে উঠবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কাহিনী
এদিন সামাজিক মাধ্যমেও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “ভারত মাতার বীর সন্তান, দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ও এক বিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিত্ব ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীর শুভমুহূর্তে আমি তাঁর প্রতি আমার সশ্রদ্ধ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি। জাতীয় ঐক্য ও জনসেবার প্রতি তাঁর অবিচল অঙ্গীকার সর্বদা অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।” বিদ্যালয়ের সংস্কারের আর্থিক প্রতিশ্রুতি এবং পাঠ্যক্রমে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ আগামী দিনে কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।













