বিশ্বের সবথেকে বড় মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ১,০০০ বছরের পুরনো শিব মন্দির! এবার সংস্কার করবে ভারত

Published on:

Published on:

India to renovate ancient Prambanan Temple, know the details.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসাবে বিবেচিত হয় ইন্দোনেশিয়া। যেখানে এমন এক সুপ্রাচীন শিব মন্দির রয়েছে যা ভারতের প্রাচীন সাংস্কৃতিক প্রভাবের স্বাক্ষ্য বহন করে। প্রায় ১,০০০ বছর পুরনো প্রম্বানন শিব মন্দির (Prambanan Temple) ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) বৃহত্তম হিন্দু মন্দির। ভারত এখন ওই মন্দিরের পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার পরিকল্পনা করছে। এই সিদ্ধান্তটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ভবন মেরামতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটিকে ভারত (India)  ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে হাজার হাজার বছরের পুরনো সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসাবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রম্বানন শিব মন্দিরটি (Prambanan Temple) ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির:

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে ইয়োগিয়াকার্তায় অবস্থিত প্রম্বানন মন্দিরটি নবম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। ভগবান মহাদেবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত এই মন্দির চত্বরটি তার চমৎকার স্থাপত্য এবং জটিল কারুকার্যের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। মন্দিরের দেওয়ালে রামায়ণের কাহিনি খোদাই করা আছে। যা ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে তুলে ধরে। আগামী ৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইন্দোনেশিয়া সফরকালে মন্দিরটির সংস্কার কাজ শুরু হবে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে শতাব্দী প্রাচীন সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার জন্য এহেন সিদ্ধান্তকে একটি বড় উদ্যোগ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

India to renovate ancient Prambanan Temple, know the details.

একটি বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়: জানিয়ে রাখি যে,  ২০২৫ সালে, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোবো সুবিয়ান্তো এই মন্দিরটির সংস্কার করতে সম্মত হন। এই চত্বরে একসময় ২৪০ টিরও বেশি মন্দির ছিল। কিন্তু নিয়মিত ভূমিকম্পের ফলে সেগুলির বেশিরভাগই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে মন্দিরটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রাম্বানান মন্দিরটি নবম শতাব্দীতে হিন্দু মাতারাম (মেদাং) সাম্রাজ্যের শাসক রাকাই পিকাতান নির্মাণ করেছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে, মন্দিরটির নির্মাণকাজ আনুমানিক ৮৫০ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ২৫ শতাংশের পরিবর্তে বেশি সংখ্যক অগ্নিবীরকে স্থায়ী বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় সেনা! নিয়ম বদল করবে কেন্দ্র?

প্রম্বানন মন্দিরের অবাক করা বৈশিষ্ট্য: প্রম্বানন মন্দিরের প্রধান শিব মন্দিরটি ৪৭ মিটার (১৫৪ ফুট) উঁচু এবং এটি লম্বা, সূচালো হিন্দু-শৈলীর স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। মন্দিরের কেন্দ্রে ভগবান শিবকে উৎসর্গীকৃত বৃহত্তম মন্দিরটি অবস্থিত। সেখানে দেবী পার্বতী, ভগবান গণেশ এবং ঋষি অগস্ত্যের মূর্তিও স্থাপিত আছে। শিব মন্দিরের উভয় পাশে ভগবান ব্রহ্মা এবং ভগবান বিষ্ণুকে উৎসর্গীকৃত মন্দির রয়েছে। সামনে নন্দী সহ দেবতাদের বাহনদের মন্দির রয়েছে। প্রাম্বানান মন্দিরটি হিন্দু ঐতিহ্য অনুসারে নির্মিত হয়েছিল। মন্দিরটি ৩ টি অংশে বিভক্ত ছিল। বাইরের অংশ, কেন্দ্রীয় অংশ এবং অন্তঃস্থল। এই ৩ টি অংশ হিন্দুধর্মে জীবনের বিভিন্ন পর্যায় এবং আধ্যাত্মিক সফরের প্রতীক। একসময়ে পাথরের দেওয়াল এই অংশগুলোকে আলাদা করে রেখেছিল, কিন্তু এখন কেবল সেগুলির ভিত্তিই অবশিষ্ট আছে।

আরও পড়ুন: একী কাণ্ড! ট্রাম্পের এক ফোনেই মার্কিন ফুটবলারের লাল কার্ড প্রত্যাহার ফিফার, বিশ্বকাপে শুরু হইচই

হিন্দু সংস্কৃতির অনবদ্য প্রমাণ: ভারত সরকার এখন প্রাম্বানান মন্দিরের সংরক্ষণ ও সংস্কারে সহায়তা করবে। অনুমান করা হচ্ছে যে, এই উদ্যোগ মন্দিরটির ঐতিহাসিক কাঠামো রক্ষা রক্ষা করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদার করতেও সাহায্য করবে। ভারত এর আগেও একাধিক দেশে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করেছে। উল্লেখ্য যে, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক নতুন নয়। ঐতিহাসিকদের মতে, বহু শতাব্দী আগে ভারতীয় বণিক থেকে শুরু করে সাধু ও পণ্ডিতগণ সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণ করেছিলেন। তাঁরা নিজেদের সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম এবং ঐতিহ্য নিয়ে এসেছিলেন। এই কারণেই আজও ইন্দোনেশিয়ায় রামায়ণ ও মহাভারত মঞ্চস্থ হয় এবং একাধিক জায়গায় হিন্দু সংস্কৃতির ঝলক দেখা যায়।