বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে সম্ভাব্য নাশকতার একটি বড়সড় ছক ভেস্তে দেওয়ার দাবি করেছে দিল্লি (Delhi) পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চালানো একাধিক অভিযানে ছয়জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক দাবি, ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক অপরাধচক্র এবং সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের যোগ থাকতে পারে। অভিযোগ, রাজধানী দিল্লি-সহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। এই অভিযানের পর উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং পেট্রল বোমা। যদিও তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবু ঘটনাটি দেশের (India) নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ (Police) জানিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
ভারতে নাশকতার ছক ভেস্তে দিল দিল্লি (Delhi Police)পুলিশ, গ্রেফতার পাকিস্তানের গ্যাংস্টার দলের ৬ সদস্য
দিল্লি পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে গোয়েন্দাদের কাছে খবর আসে যে রাজধানী ও তার আশপাশে একটি সংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে। তদন্তে সন্দেহ করা হচ্ছে, এই গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে পাকিস্তানের গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি এবং আজমল গুজ্জরের নেটওয়ার্কের সঙ্গে। এছাড়াও অস্ত্র পাচার, মাদক পাচার এবং সংগঠিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও এই চক্রের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই দিল্লি (Delhi), পাঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশের একাধিক এলাকায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। এরপরই ছয়জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। তদন্তের স্বার্থে এখনও পর্যন্ত তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রেখে প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন ও ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ কার্তুজ এবং কয়েকটি পেট্রল বোমা। এই উদ্ধার হওয়া সামগ্রী কোথা থেকে এসেছে, কারা সরবরাহ করেছে এবং এগুলি কোথায় ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা এ-ও খতিয়ে দেখছেন, ধৃতদের সঙ্গে দেশের অন্য কোনও অপরাধচক্র বা জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে কি না। একই সঙ্গে এই নেটওয়ার্কে আরও কতজন জড়িত, তাদের অবস্থান কোথায় এবং ভবিষ্যতে কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই সমস্ত বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি রাঁচিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর একটি কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ওই হামলায়ও পেট্রল বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে দিল্লিতে ধৃতদের সঙ্গে রাঁচির ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারী সংস্থাগুলি জানিয়েছে, শুধুমাত্র উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মিল থাকলেই দুটি ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। সমস্ত তথ্য, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: প্রণামী চুরি বিতর্কের পর গৃহীত চম্পত রাইয়ের ইস্তফা! রাম মন্দিরের ট্রাস্টের শীর্ষপদের দায়িত্বে কে?
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত মাসেও দিল্লি (Delhi) পুলিশের হাতে সাতজন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, তাদেরও একই অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ ছিল। ফলে সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তারির পর গোটা বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্র, অস্ত্র পাচার এবং সীমান্তপারের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি সূত্রে প্রকাশিত তথ্যের উপর ভরসা করার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ধৃতদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিচারাধীন বলেই গণ্য হবে।













