বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ যোগ হল। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি UGRAM 7.62×51 মিমি ব্যাটল রাইফেল (UGRAM Battle Rifle) ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তেলঙ্গানার স্টার্টআপ Dvipa Defence-এর তৈরি এই অত্যাধুনিক রাইফেলকে ঘিরে প্রতিরক্ষা মহলে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, ভারতীয় সেনার পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল মেলার পর কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের জন্য এই অস্ত্র কেনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। CRPF, ITBP, SSB এবং NSG-র মতো বাহিনীতে ভবিষ্যতে এই রাইফেল অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় সংস্থার তৈরি এমন উন্নত মানের অস্ত্র সফল হলে বিদেশি অস্ত্রের উপর ভারতের নির্ভরতা আরও অনেকটাই কমবে।
ভারতের প্রতিরক্ষায় এল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে মাত্র ১০০ দিনে তৈরি UGRAM Battle Rifle
এই রাইফেল তৈরির পিছনে রয়েছে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা DRDO-র অধীন আরমামেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্ট্যাবলিশমেন্ট বা ARDE-এর গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা। সংস্থার দাবি, মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে UGRAM-এর নকশা তৈরি থেকে শুরু করে উন্নয়ন এবং প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, যা ভারতের অন্যতম দ্রুততম দেশীয় অস্ত্র উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। Dvipa Defence-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর সিবু জোসেফ জানিয়েছেন, ২০২১ সালে অস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স পাওয়ার পর তেলঙ্গানা সরকারের বরাদ্দ করা ১৩ একরেরও বেশি জমিতে অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্থাটি ১০০টিরও বেশি দেশীয় অস্ত্র এবং তার বিভিন্ন সংস্করণ তৈরি করেছে। তবে সংস্থার মতে, UGRAM-ই (UGRAM Battle Rifle) তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প।
আরও পড়ুন ‘ তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মামলায় ইডির হানা, কলকাতা সল্টলেকের একাধিক জায়গায় চলছে তল্লাশি
UGRAM ব্যাটল রাইফেল ইতিমধ্যেই একাধিক কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। GSQR ট্রায়াল, বিভিন্ন ভৌগোলিক ও আবহাওয়াগত পরিবেশে ফিল্ড ইভালুয়েশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের MHA বোর্ড ট্রায়াল, সব ক্ষেত্রেই সন্তোষজনক ফল দিয়েছে এই অস্ত্র। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহারের সক্ষমতা যাচাই করতে নির্ভরযোগ্যতা এবং সহনশীলতার পরীক্ষাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে কোনও অস্ত্র ব্যবহারের আগে এই ধরনের কঠোর পরীক্ষায় সফল হওয়াই সবচেয়ে বড় মানদণ্ড। সেই দিক থেকে UGRAM ইতিমধ্যেই নিজেকে একটি নির্ভরযোগ্য দেশীয় রাইফেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও UGRAM বেশ আধুনিক। এতে রয়েছে উন্নত গ্যাস অপারেটেড রোটেটিং বোল্ট সিস্টেম, যা দ্রুত ও নির্ভুল ফায়ারিং নিশ্চিত করে। রাইফেলটির ওজন ৪ কেজিরও কম হওয়ায় দীর্ঘ সময় বহন করা সহজ, আবার প্রায় ৫০০ মিটার পর্যন্ত কার্যকর পাল্লা থাকায় বিভিন্ন ধরনের অভিযানে এটি ব্যবহার করা সম্ভব। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, মরুভূমি কিংবা চরম আবহাওয়ার মধ্যেও কার্যক্ষমতা বজায় রাখার জন্য এই অস্ত্রকে বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। বর্তমানে Dvipa Defence শুধু ব্যাটল রাইফেলই নয়, সাব-মেশিন গান, অ্যাসল্ট রাইফেল, লাইট মেশিন গান, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমসহ একাধিক আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কাজ করছে। ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজন মাথায় রেখে আরও উন্নত আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির গবেষণাও চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! পূর্ব মেদিনীপুরে চালু SBSTC-র নতুন বাস, জানুন রুট ও সময়সূচি
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, UGRAM-এর সাফল্য শুধুমাত্র একটি নতুন রাইফেলের সাফল্য নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার প্রতীক। কেন্দ্রের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্যই হল প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করা। ভারতীয় সেনার ট্রায়ালে সফল হওয়ার পর যদি CAPF-এর বিভিন্ন বাহিনীতেও UGRAM (UGRAM Battle Rifle) ব্যাপকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে তা দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে দেশীয় স্টার্টআপগুলিও যে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি তৈরি করতে সক্ষম, UGRAM-এর সাফল্য সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।













