বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Bank Freeze) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া নিয়ে আইনি লড়াই আরও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় নিল। মামলার দ্রুত শুনানির জন্য দলের পক্ষ থেকে বিশেষ আবেদন জানানো হলেও তাতে সাড়া দিল না কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত দিনেই শুনানি হবে। বিচারপতির একটি মন্তব্যও এদিন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মামলা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট(Calcutta High Court)
আজ, মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলাটি উল্লেখ করেন তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত। তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানান, দলের হয়ে সওয়াল করতে এদিন বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি উপস্থিত রয়েছেন। সেই কারণে মামলাটি যাতে মঙ্গলবারই শুনে নেওয়া হয়, সেই আর্জি জানান তিনি।তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।
বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সলিসিটর জেনারেলের আবেদনের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার হবে। আবেদন খারিজ করতে গিয়ে বিচারপতি তৃণমূলের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, “এক দিন দেরি হলে আকাশ ভেঙে পড়বে না।”
এর আগে গত সপ্তাহে এই মামলার শুনানিতে অভিযোগ দায়েরের সময় এবং তার পরদিনই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার ঘটনাক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, “অভিযোগ দায়েরের সময় আদালতকে ভাবাচ্ছে। ২৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় অভিযোগ দায়ের হয়। আর পরদিন সকালেই ব্যাঙ্ক জানাল অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। অথচ অভিযোগ জানানোর আগে ওই অ্যাকাউন্ট নিয়ে নির্দিষ্ট কেন অপরাধের অভিযোগে উঠেনি। তাহলে হঠাৎ পুলিশ অভিযোগের পরে কিসের ভিত্তিতে এত তড়িঘড়ি ফ্রিজ করার জায়গায় চলে গেল।”
সেই শুনানিতে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে অভিষেক মনু সিংভিও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালতে তিনি বলেন, “পুলিশ কি চলতি রাজনৈতিক দলকে এভাবে তার লাইফলাইন বন্ধ করে পঙ্গু করতে পারে?” উল্লেখ্য, এই মামলায় ইতিমধ্যেই শরৎ বোস রোডের সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্ককে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন : রক্ষাকবচ পেয়েও তদন্তে সহযোগিতা নয় কেন? অভিষেককে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের
আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার আগে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা জরুরি। তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্টও আদালতে পেশ করার কথা ছিল মঙ্গলবার। তবে শুনানির দিন পিছিয়ে যাওয়ায় সেই রিপোর্টও বৃহস্পতিবারই জমা পড়বে।
বৃহস্পতিবারের শুনানির পর আদালত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী মহল এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের।













