বাংলা হান্ট ডেস্ক: পৃথিবীবিখ্যাত তথা এশিয়ার বৃহত্তম বইয়ের বাজার কলকাতার কলেজস্ট্রিট (College Street)। বই-প্রেমিকদের কাছে যা এককথায় স্বর্গরাজ্য। কিছুদিন আগেই কলকাতার ঐতিহ্যমন্ডিত এই কলেজস্ট্রিটকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য নিউ-ইয়র্ক বা লন্ডনের আদলে বুক হাব তৈরি করার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। আর এবার কথামতোই সেই উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করার জন্য মঙ্গলবার পুরো নগরোন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে কলেজ স্ট্রিটের বই পাড়ার বড় পাবলিশার সংগঠনের সাথে বৈঠকে বসেছিলেন মন্ত্রী।
কলেজ স্ট্রিটে আন্তর্জাতিক মানের ‘Book Hub’
পুরমন্ত্রীর প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক মানের এই ‘বুক হাব’-এ গিয়ে সাধারণ মানুষ ঘুরে দেখার পাশাপাশি যাতে বসে বই পড়তে পারেন তার জন্য বিশেষ একটি, ‘রিডিং জোন’ তৈরি করা হবে। এছাড়াও থাকবে আধুনিক মানের উন্নত নকশার সুসজ্জিত বইয়ের স্টল। তাই শুধু বই কেনা নয়, পাশাপাশি থাকবে আড্ডা, পড়াশোনা এবং সংস্কৃতি চর্চার বিরাট সুযোগ-সুবিধা। এ ছাড়া বইয়ের নতুন মোড়ক উন্মোচন বা সাহিত্যসভার জন্য ছোট ছোট অডিটোরিয়াম ও হলের ব্যবস্থাও করা হবে।
বৈঠকে ‘বর্ণপরিচয়’ মার্কেটের প্রসঙ্গ
কেএমডিএ সূত্রে খবর আগামীদিনে কলেজ স্ট্রিটকে ঢেলে সাজাতে গোটা চত্বর মুড়ে ফেলা হবে ঐতিহ্যবাহী আলোর মোড়কে। ঢালাই লোহার রেলিং থেকে গ্রানাইট পিভার ব্লক বসানো হবে৷ একইসাথে এদিনের বৈঠকে উঠে আসে ২০০৬ সালের অর্থাৎ বাম জমানায় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্নের বুক মল তথা ‘বর্ণপরিচয়’ মার্কেটের কথাও।
আরও পড়ুনঃ ‘কী শাস্তি হবে সেটা সমাজ দেখবে’, বারুইপুর থেকে কড়া হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রা পালের
সূত্রের খবর বর্ণপরিচয় মার্কেট নিয়ে যে পূর্ব পরিকল্পনা ছিল আগামীদিনে সেই অনুযায়ী সমস্ত বইয়ের দোকানদারদের এক ছাদের তলায় আনা হবে ৷ থাকবে অত্যাধুনিক পার্কিং থেকে শুরু করে, উন্নত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সহ গুদামের ব্যবস্থাও। এছড়াও বাস্তবায়িত হবে ফুড কোর্ট থেকে শুরু করে ক্যাফেটেরিয়াও।
তাই এদিনের বৈঠকের পর কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের প্রতিনিধিদের আশা আগামীদিনে যদি সরকারি হস্তক্ষেপে এই ‘বর্ণপরিচয়’ মার্কেট চালু করা যায় তাহলে তা কলেজ স্ট্রিটের সামগ্রিক ভোলবদল ও ‘বুক হাব’-এর স্বপ্নপূরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জানা যাচ্ছে, ফুটপাথ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ প্রসঙ্গেও এদিন পুরমন্ত্রীর সাথে সদর্থক আলোচনা হয়েছে। তাই সকলের রুজি রুটির কথা বিবেচনা করে সুপরিকল্পিত ভাবে স্টল বানিয়ে তাঁদের পুনর্বাসন দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।













