বাংলা হান্ট ডেস্ক : মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave) নিয়ে বিরাট পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের (High Court)। কর্মজীবী নারীদের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি কোনও সরকারি অনুগ্রহ নয়, এটি সংবিধান স্বীকৃত অধিকার। তাই প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করে সেই সময়ের বেতন বা ভাতা বন্ধ করা আইনসম্মত নয়।
মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে কী নির্দেশ হাইকোর্টের (High Court)?
সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কয়েকজন মহিলা চিকিৎসক এই সংক্রান্ত মামলা করেন। ২০২০ সালের জম্মু-কাশ্মীর মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল এডুকেশন বিধির আওতায় সিনিয়র রেসিডেন্ট ও টিউটর হিসেবে কাজ করছিলেন। সন্তান জন্মের সময় তাঁরা নিয়ম মেনে মাতৃত্বকালীন ছুটি নিলেও, পরে জানতে পারেন ওই সময়ের বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা তাঁদের দেওয়া হবে না। এরপরই তাঁরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৮ জুলাই জারি হওয়া সরকারি নির্দেশিকায় সিনিয়র রেসিডেন্ট ও টিউটরদের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর আরেকটি নির্দেশ জারি করে প্রশাসন জানায়, মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় তাঁরা ‘আউট অফ অ্যাসাইনমেন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হবেন। সেই কারণ দেখিয়ে তাঁদের বেতন ও বিভিন্ন ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মহিলা চিকিৎসকদের বক্তব্য ছিল, চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় কিংবা পরে কোথাও জানানো হয়নি যে মাতৃত্বকালীন ছুটি নিলে বেতন বন্ধ হয়ে যাবে। প্রশাসনের আইনজীবীরা অবশ্য আদালতে দাবি করেন, আবেদনকারীরা স্থায়ী সরকারি কর্মী নন। তাঁরা চুক্তিভিত্তিকভাবে নিযুক্ত ছিলেন। তাই বেতন-সহ মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি রাজনেশ ওসওয়ালের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, প্রশাসনের এই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ২০২৪ সালের সরকারি নির্দেশেই যখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকার স্বীকৃত হয়েছে, তখন সেই সময়ের বেতন ও ভাতা থেকেও তাঁদের বঞ্চিত করা যায় না।

আরও পড়ুন : আগের সরকারের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ মুখদের নতুন দায়িত্ব, ১২৪ WBCS অফিসারকে বড় নির্দেশ
এই মামলায় বিচারপতির মন্তব্য, “মাতৃত্বকালীন ছুটিকে কোনওভাবেই সরকারি দয়ার বিষয় হিসেবে দেখা যায় না। এটি নারীর মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত এক অবিচ্ছেদ্য সাংবিধানিক অধিকার। ছুটির অধিকার থাকলে পূর্ণ বেতনও তার স্বাভাবিক অংশ। প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।” এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আবেদনকারী চিকিৎসকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির পুরো সময়ের বকেয়া বেতন এবং প্রাপ্য সমস্ত ভাতা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। কর্মজীবী নারীদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এই রায় ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হবে।

















