ডিটারজেন্ট মিশিয়ে একী কাণ্ড! বাজারে কোটি কোটি লিটার নকল দুধ, হদিশ মিলল চক্রের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে প্রকাশ্যে এল দেশের অন্যতম বড় ভেজাল দুধ (Synthetic Milk) চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাইরে থেকে দেখতে একেবারে সাধারণ দুধের মতো, স্বাদেও তেমন কোনও পার্থক্য নেই। কিন্তু পরীক্ষাগারে গুণমান যাচাই করতেই সামনে আসে ভয়ঙ্কর সত্য। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, ডিটারজেন্ট পাউডার, পাম তেল, নিম্নমানের মিল্ক পাউডার এবং বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ সিন্থেটিক দুধ, যা পরে আসল দুধের সঙ্গে মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করা হত। মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) ধারাশিব জেলার ভূম তালুক এলাকায় পুলিশ এবং রাজ্যের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)-এর যৌথ অভিযানে এই চক্রের সন্ধান মিলেছে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, গত ছয় মাসে প্রায় ২.৩ কোটিরও বেশি লিটার ভেজাল দুধ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে গিয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

মহারাষ্ট্রে দেশের অন্যতম বড় ভেজাল দুধ (Synthetic Milk) তৈরির চক্র ফাঁস করল FDA

অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া বিক্রির নথি ও অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, গত ছয় মাসে প্রায় ২,৩০,৪৭০ কেজি নিম্নমানের দুধের গুঁড়ো ব্যবহার করে ২৩ লক্ষ লিটারেরও বেশি সিন্থেটিক দুধ (Synthetic Milk) তৈরি করা হয়েছিল। এই দুধের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯.২১ কোটি টাকা। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা প্রতি ১০০ লিটার আসল দুধের সঙ্গে প্রায় ১০ লিটার সিন্থেটিক দুধ মিশিয়ে বাজারে সরবরাহ করত। এই অনুপাতের ভিত্তিতে তদন্তকারী সংস্থার অনুমান, বাস্তবে বাজারে পৌঁছে যাওয়া ভেজাল দুধের পরিমাণ ২.৩ কোটিরও বেশি লিটার হতে পারে। ফলে বহু মানুষ অজান্তেই এই ভেজাল দুধ ব্যবহার করেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইউক্রেনে পরমাণু হামলা করতে চেয়েছিলেন পুতিন! বাধা দেন মোদী, আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত ভারত

তদন্তে উঠে এসেছে, আসল দুধের মতো রং, ঘনত্ব ও ফ্যাটের মাত্রা বজায় রাখার জন্য বিশেষ কৌশল ব্যবহার করা হত। ডিটারজেন্ট পাউডার, পাম তেল, নিম্নমানের রাসায়নিক পাউডার এবং নিম্নমানের মিল্ক পাউডার নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে এমন একটি তরল তৈরি করা হতো, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল দুধ থেকে আলাদা করা কার্যত অসম্ভব। অভিযোগ, গোটা চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এবং পশুখাদ্য ব্যবসার আড়ালে এই অবৈধ কারবার চলছিল। তদন্তে বালাসাহেব গডসে নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যিনি ভূম এলাকার একাধিক দুগ্ধ উৎপাদন কেন্দ্রে এই ভেজাল মিল্ক পাউডার সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি একাধিক মিল্ক কালেকশন সেন্টারের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তরা পলাতক। তাঁদের গ্রেফতারের জন্য একজন পুলিশ ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চলছে। অভিযানের সময় ওই কারখানা থেকে ৬১ ব্যাগ ভেজাল মিল্ক পাউডারও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের সঙ্গে আরও ব্যক্তি বা সংস্থা জড়িত থাকতে পারে। তাই আর্থিক লেনদেন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বাজারজাতকরণের পুরো নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, এ ধরনের প্রাণঘাতী খাদ্য ভেজালের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডেরও বিধান রয়েছে।

FDA has busted one of the country's largest synthetic milk rackets in Maharashtra.

আরও পড়ুন: টিউশনের ৫,০০০ টাকায় শুরু করেন ব্যবসা! আজ বার্ষিক ৩৬ লক্ষের আয়, অবাক করবে সাত্বিকার কাহিনি

চিকিৎসকদের মতে, ডিটারজেন্ট, নিম্নমানের রাসায়নিক এবং ভেজাল তেল মিশিয়ে তৈরি এই ধরনের দুধ নিয়মিত পান করলে শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। লিভার ও কিডনির ক্ষতি, হজমের গুরুতর সমস্যা, বিষক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার আশঙ্কা বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে। এই ঘটনার পর খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারে বিক্রি হওয়া দুগ্ধজাত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রশাসনের দাবি, গোটা চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Synthetic Milk)।